
কলকাতা: একদিকে সপ্তাহের অন্যতম ব্যস্ত দিন, অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহাওয়া, এই দুইয়ের মাঝেই আজ, বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে পালিত হতে চলেছে রামনবমী। রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক প্রচার ও কর্মসূচির পাশাপাশি আজ শহরজুড়ে বেরোবে একাধিক ধর্মীয় শোভাযাত্রা। যার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই তিলোত্তমার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের প্রবল আশঙ্কা করছে ট্রাফিক পুলিশ। অফিস বা কলেজের উদ্দেশে বেরোনোর আগে তাই শহরের ট্রাফিক মানচিত্রের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কখন, কোথায় যানজটের সম্ভাবনা?
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালের ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল মোটের ওপর স্বাভাবিক থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিকের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। আজ শহরজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি রামনবমীর মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল ১১টা থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত ও ছোটোখাটো মিছিল শুরু হয়ে যাবে। দুপুর ১২টায় হেস্টিংস চত্বর থেকে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বেরোনোর কথা রয়েছে। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দুপুর ২:৩০ মিনিটে শহরের দুই প্রান্ত- উত্তর কলকাতার বাগবাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার বেহালা চৌরাস্তা থেকে জোড়া মিছিল রাস্তায় নামবে। বিকেল ৪টেয় বন্ডেল ব্রিজ বা বন্ডেল গেট এলাকা থেকে বিকেলে আরও একটি মিছিল বেরোবে।
এছাড়াও বিটি রোডের চিড়িয়ামোড়, খিদিরপুর এবং রামলীলা ময়দান চত্বরে বড়সড় জমায়েত হবে। তবে এবারের বিশেষ সংযোজন হলো ভবানীপুর এলাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বছর প্রথম ভবানীপুরে একটি নতুন রামনবমীর মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় লালবাজার
যেহেতু রাজ্যে এখন পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চলছে, তাই উৎসবের আড়ালে যাতে কোনোভাবেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি দানা বাঁধতে না পারে, সে ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের তরফ থেকে গোটা শহরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে কোনো ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, প্রতিটি এলাকায় ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার আধিকারিকদের কড়া নজরদারিতে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি পরিচালিত হবে। প্রতিটি মিছিলের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন একজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার অফিসার। এছাড়া, প্রতিটি শোভাযাত্রার একেবারে সামনে এবং পেছনে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসকর্ট করে চলবে। নির্দিষ্ট মিছিলের রুটগুলো ছাড়াও শহরের বিভিন্ন সংবেদনশীল মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগাম ‘রিজার্ভ ফোর্স’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

