‘আর কোনো মামলাতেই থাকব না’, এবার অভিষেকের ওপর চটলেন কল্যাণ

কলকাতা: ঘরে-বাইরে একের পর এক সংকটে জেরবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি এবার এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল। সই জালিয়াতি মামলায় যখন কলকাতা…

Kalyan Banerjee Targets Abhishek Again, Says "Camac Street Ruined Everything

কলকাতা: ঘরে-বাইরে একের পর এক সংকটে জেরবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি এবার এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল। সই জালিয়াতি মামলায় যখন কলকাতা হাইকোর্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলছে, ঠিক তখনই আইনি ময়দানে কার্যত ‘একা’ হয়ে পড়লেন তৃণমূল সেনাপতি। নাটকীয়ভাবে অভিষেকের হয়ে মামলা লড়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু অভিষেকের মামলাই নয়, রাজ্য সরকার ও দলের সমস্ত হাই-প্রোফাইল মামলা থেকেই তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। হাইকোর্টের মেগা শুনানির ঠিক আগের মুহূর্তে কল্যাণের এই সিদ্ধান্তকে ঘাসফুল শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বুধবার সন্ধ্যার একটি ফোনেই কাটল ছন্দ!

আদালত ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সই জালিয়াতি কাণ্ডে হাইকোর্টে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যার পর অভিষেক শিবিরের তরফ থেকে একটি ফোন যায় কল্যাণের কাছে। সেই ফোনে কল্যাণের পাশাপাশি অন্য এক নতুন আইনজীবীর নাম মামলার জন্য প্রস্তাব করা হয়। নিজের তিন দশকের ওকালতি জীবনে এই হস্তক্ষেপকে একেবারেই ভালো মনে নেননি বর্ষীয়ান এই আইনি যোদ্ধা। এরপরই ক্ষোভে বেঁকে বসেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, অভিষেক তো বটেই, তৃণমূল বা রাজ্য সরকার সংক্রান্ত কোনও মামলাতেই তিনি আর সওয়াল করবেন না, এমনকি পরামর্শদাতা হিসেবেও থাকবেন না।

Advertisements

মমতার দীর্ঘদিনের ‘সংকটমোচক’ ছিলেন কল্যাণ

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তৃণমূলের জমানায় দলের বহু কঠিন সময়ে ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বা সংকটমোচক হিসেবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সিঙ্গুর জমি আন্দোলন, নন্দীগ্রাম বা রিজওয়ানুর রহমান মৃত্যুর মতো হাই-প্রোফাইল মামলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের সই কাণ্ড, সর্বত্রই দলের আইনি ভরসা ছিলেন কল্যাণ।

একদিকে যখন সই কাণ্ডে সিআইডি-র হাত থেকে বাঁচতে রক্ষাকবচের খোঁজে মরিয়া অভিষেক, ঠিক তখনই তাঁর অহংবোধের চোটে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আইনজীবীর এভাবে হাত ধুয়ে ফেলা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, কল্যাণের এই আকস্মিক ‘বিদ্রোহের’ পর নতুন কোন আইনজীবীর হাত ধরে আইনি বৈতরণী পার হন অভিষেক।