ভবানীপুরে মমতার ‘সেলফি বুথ’! প্রচারে চমক তৃণমূলের

কলকাতা: হাইভোল্টেজ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে সবসময়ই নজর থাকে গোটা রাজ্যের। আর এবার সেই ভবানীপুরেই নির্বাচনী প্রচারে একেবারে অভিনব কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
innovative campaign selfie with mamata

কলকাতা: হাইভোল্টেজ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে সবসময়ই নজর থাকে গোটা রাজ্যের। আর এবার সেই ভবানীপুরেই নির্বাচনী প্রচারে একেবারে অভিনব কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ‘ফোটো বুথ’ বা ‘ফোটো কর্নার’। এই বুথে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ছবির পাশে নিজের ছবি তুলতে পারবেন। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রচারের ইতিহাসে এই উদ্যোগ কার্যত নজিরবিহীন।

ফোটো বুথে কী থাকছে?

দলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই ফোটো বুথগুলি ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডে বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি বুথ বসানো হয়েছে।

   

বুথের একপাশে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর হাতজোড় করা ছবি এবং অন্য পাশে রয়েছে ছবি তোলার জন্য নির্দিষ্ট ফাঁকা জায়গা। বুথের উপরে জ্বলজ্বল করছে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানের পাশাপাশি নিচে লেখা রয়েছে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।

দলীয় সূত্রের দাবি, এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পথচলতি মানুষ, এমনকি গাড়ি থামিয়েও অনেকে আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও হেভিওয়েটদের দায়িত্ব

গত কয়েক বছর ধরে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা দেখেছে রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই লড়াইয়ের আঁচ সরাসরি ভবানীপুরের ভোটের ময়দানেও পড়তে চলেছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়ায় এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই প্রেক্ষাপটে ভবানীপুরের লড়াইকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, “এক ভোটে হলেও আমি ভবানীপুর থেকে জিতব।” ভোট পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের দুই অভিজ্ঞ সেনাপতি ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সীকে। পাশাপাশি, সম্প্রতি কর্মী সম্মেলনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে ৫০ হাজার ভোটে জয়ের কড়া লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। সেই টার্গেট ছুঁতেই ফোটো বুথের মতো এই জনসংযোগের হাতিয়ারকে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।