লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব! মমতার দ্বারস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার

Bangladesh High Commissioner Meets Mamata Banerjee to Strengthen India Ties After 9 Years
Bangladesh High Commissioner Meets Mamata Banerjee to Strengthen India Ties After 9 Years

দীর্ঘ নয় বছর পর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh Relations) কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এই প্রথমবার মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ। নবান্নে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

▪️ ৯ বছরের ব্যবধান
২০১৫ সালের পর এই প্রথম কোনও বাংলাদেশি হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে একাধিক হাইকমিশনারের অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাক্ষাতের অনুমতি মেলেনি। ফলে রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

   

▪️ বৈঠকের আবহ ‘উষ্ণ ও অকপট’
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের আবহ ছিল অত্যন্ত “উষ্ণ ও অকপট”। দুই পক্ষের মধ্যে নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বিশেষত বাংলা ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং খাদ্যরসিকতার মিল—এই সব দিক উঠে এসেছে আলোচনায়। হাইকমিশনার বলেন, “আমরা সীমান্তের দুই প্রান্ত। শুধু ভাষাই নয়, আম ও ইলিশের প্রতি ভালবাসাও আমাদের এক করেছে। এই সম্পর্ক আরও মজবুত করা দরকার।”

▪️ ইউনুস প্রসঙ্গেও শ্রদ্ধা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রতি ‘হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে’ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন।

▪️ কূটনীতির নয়া মোড়?
এই সাক্ষাৎকার অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে হচ্ছে কারণ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিস্তার জলবণ্টন থেকে শুরু করে সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ—সব কিছু নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্ক জটিল হয়েছে। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎ এক নতুন বার্তা বহন করছে।

▪️ পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা
বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই মনে করে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে হলে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ঢাকার তরফে বারবার কলকাতা তথা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

হাইকমিশনার হামিদুল্লাহ বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চাই, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন