নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক জনমুখী প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা করেন, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে তিনি দাবি করেন। রবিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সাফল্যের পর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে রাজ্য সরকার “দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা” নামে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করতে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, ফলে সাধারণ মানুষকে আর হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে দ্রুত ও সহজ স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। অনেক সময় দেখা যায়, দূরবর্তী এলাকার মানুষ সময়মতো চিকিৎসা পান না বা হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়। এই সমস্যা দূর করতেই সরকারের এই উদ্যোগ। বাড়ির কাছেই প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। এতে বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
সভায় তিনি রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্র নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আলু চাষিদের জন্য আলাদা বিমা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার কথা তিনি উল্লেখ করেন। ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তার জন্য রাজ্য সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। “যুবসাথীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা আমরা করবই” এই মন্তব্য করে তিনি জানান, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলেও তিনি জানান।




















