প্রাক্তন ISI কর্মী গর্গের গ্রেফতারের সঙ্গে মিলল ২৪ রাউন্ড গুলি

কলকাতা: ইভিএম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে (Garg Chattopadhyay)ঘিরে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা…

garg-chattopadhyay-ammunition-recovery-evm-case

কলকাতা: ইভিএম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে (Garg Chattopadhyay)ঘিরে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা যখন মঙ্গলবার সকালে দেশপ্রিয় পার্কে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে, তখন সেখান থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৪ রাউন্ড কার্তুজ বা গুলি। এই উদ্ধার ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট করেছেন যে, গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে থাকা বারুইপুর পুলিশ জেলার একজন পুলিশকর্মী (যিনি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন) তাঁর কাছ থেকেই এই গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে ।গর্গ চট্টোপাধ্যায় ইন্ডিয়ান স্টাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে (ISI)অধ্যাপনা করতেন এক সময়। সেখান থেকেই বাংলাপক্ষ সংগঠন তৈরী হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ মে ২০২৬ সকালে নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি ইভিএম এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু তথ্য ছড়িয়েছিলেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেই সাইবার ক্রাইম শাখা তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়।

   

আরও দেখুনঃ জম্মু-কাশ্মীরে মদ বন্ধ নয়! সাফ জানালেন আবদুল্লাহ

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের সময় গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অথবা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী তথা পিএসও-র কাছ থেকে মোট ২৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এই কার্তুজগুলি বৈধভাবে রাখা হয়েছিল কি না, সেগুলি কোন আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ব্যবহার করা হত এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলি সেখানে ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই। বাংলা পক্ষের প্রধান হিসেবে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় হলেও, তাঁর মতো একজন ব্যক্তির জন্য কীভাবে সরকারি পিএসও মোতায়েন ছিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ওই নিরাপত্তারক্ষী সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়োজিত ছিলেন কি না এবং উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলির সঙ্গে তাঁর কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না।

এদিকে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থকদের দাবি, পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা স্বচ্ছতার দাবি করা গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। সেই কারণে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যদিও প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র আইন ও তদন্তের ভিত্তিতেই দেখা হচ্ছে।