অ্যাম্বুলেন্স থেকে হাসপাতালে ফ্রি বেডের ঘোষণা বিধানসভায়

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা (west bengal)  ও চিকিৎসা পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও উন্নত করে তুলতে বিধানসভায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ২০২৫-২৬…

Fake Albumin Injections Seized from Kolkata's Nursing Home

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা (west bengal)  ও চিকিৎসা পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও উন্নত করে তুলতে বিধানসভায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বিশেষ সহায়তার আওতায় প্রায় ৭৫৪ কোটি টাকার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য বাজেটের সামগ্রিক পরিসরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে বাংলাকে একটি আধুনিক ‘হেলথ হাব’ বা বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দিনে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবা, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা যাতে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে একাধিক নতুন উদ্যোগ।

কলকাতার (west bengal)  আইপিজিএমআর-এসএসকেএম হাসপাতালকে আরও আধুনিক করে তুলতে একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। সেখানে তৈরি হচ্ছে নতুন ১০ তলা উডবার্ন ওয়ার্ড, যেখানে থাকবে ১৩১টি পেইং বেড, আধুনিক কেবিন এবং মড্যুলার অপারেশন থিয়েটার। পাশাপাশি চালু হতে চলেছে রোবোটিক সার্জারি পরিষেবা, যা জটিল অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কার্ডিওলজি বিভাগে দ্বিতীয় ক্যাথল্যাব চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা আরও দ্রুত ও উন্নত মানের করা সম্ভব হবে।

চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লি রোডে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসন তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এসএসকেএম ও এনআরএস হাসপাতালে বসানো হবে ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিন। কলকাতা ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নতুন ক্যাথল্যাব তৈরি এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছয় তলা নতুন রোগী পরিষেবা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শুধু সরকারি হাসপাতাল নয়, বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে রাজ্যে পাঁচটি আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা মেডিক্যাল হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার উপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হবে না।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় দালালচক্র ও অনিয়ম কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অ্যাপ-ক্যাবের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিপিএস ট্র্যাকিং-সহ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে রোগী ও পরিবারের সদস্যরা সহজে অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থান জানতে পারবেন এবং জরুরি সময়ে দ্রুত পরিষেবা পাওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ বিনামূল্যে সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রায় ২ হাজার ২১৫টি বেড রোগীদের জন্য বিনামূল্যে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। এতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি হবে।