‘ভোটের ময়দানে চিঠি নয়, কার্যকরী কাজই লাগে’, তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপের

Dilip Ghosh’s Arrival in Purighat Triggers Massive Political Unrest
Dilip Ghosh’s Arrival in Purighat Triggers Massive Political Unrest

৭ তারিখ সকালে খড়্গপুরের একটি চায়ের আড্ডায় বসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আবহাওয়া খারাপ থাকায় তিনি খড়্গপুরে নিজের বাংলোতেই সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। তার আলোচনায় উঠে আসে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত।

অধীর চৌধুরীর গাড়িতে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh) বলেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ ও বড় মাপের নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তার গাড়ি নিয়েও এমন কিছু দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। তিনি মনে করান, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা।

   

রাজ্যে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে হিংসার রাজনীতি চলে আসছে। তাঁর মতে, কেবল বাহিনী মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়। যে দুষ্কৃতীরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে, তাদের আগে গ্রেপ্তার করতে হবে। এভাবে শুধুমাত্র তখনই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেন এবং জানান যে, কমিশন এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে সুজাপুর ও কালিয়াচকের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় তদন্ত সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন এবং বলেন, এর ফলে অন্যদের মধ্যেও সতর্কবার্তা পৌঁছাবে।

সরকার গঠনের প্রসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা জোরকদমে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। অমিত শাহের আসন্ন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খড়্গপুরে অমিত শাহের রোড-শো বিপুল সাড়া পাবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এ ধরনের বাচনভঙ্গির ফলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানান, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া, হলদিয়ায় বিজেপি কর্মীদের হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলেও উল্লেখ করেন।

পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “চিঠি লিখে নির্বাচন জেতা যায় না। গত ১৫ বছরের শাসনের হিসাব জনগণের সামনে পেশ করতে হবে।” তিনি আরও আশাবাদীভাবে উল্লেখ করেন যে, আসাম ও পুদুচেরিতে বিজেপি জয়ের পথে রয়েছে এবং কেরালাতেও দলটি একটি প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।