দিঘায় রথ টানার অনুমতি নেই, ভক্তদের থাকতে হবে ব্যারিকেডের বাইরে: মুখ্যমন্ত্রী

Digha Ratha Yatra security

দিঘা: রথ টানার আশা নিয়ে দিঘায় ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার পর্যটক ও ভক্ত। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট ঘোষণা-এবার দিঘার জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টারের রথযাত্রায় কেউ রথ টানতে পারবেন না। শুধুমাত্র রথের রশি স্পর্শ করার অনুমতি থাকবে দর্শনার্থীদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার স্বার্থে।

প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী

রথযাত্রার একদিন আগে, বৃহস্পতিবার, মন্দির চত্বরে পৌঁছে রথের রুট, নিরাপত্তা এবং জনসমাগম সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং একাধিক প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু এবং ইন্দ্রনীল সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে রথের গতিপথ, থামার জায়গা এবং দর্শনার্থীদের অবস্থান নির্ধারণ করে দেন।

   

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ঠিক আড়াইটেতে রথ শুরু হবে। কিন্তু রাস্তায় কেউ থাকবে না। দর্শনার্থীদের থাকতে হবে ব্যারিকেডের বাইরে। দু’দিকেই কড়া ব্যারিকেড করা হয়েছে, যাতে কোনওভাবে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।” তিনি আরও বলেন, “রথ কিছুটা যাবে, কিছুটা থামবে-এইভাবে এগোবে। দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে থেকে রথের দর্শন করতে পারবেন। আমরা দড়ি এগিয়ে দেব, যাতে তাঁরা স্পর্শ করতে পারেন।”

দিঘার ‘মাসির বাড়ি’ পর্যন্ত যাবে রথ Digha Ratha Yatra security

এই রথযাত্রা দিঘার ‘মাসির বাড়ি’ পর্যন্ত যাবে এবং ফিরে আসবে উল্টো রথে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুই দিকের যাত্রা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই পরিকল্পনা। সকল দর্শনার্থীকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি এবং সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, রথযাত্রা উপলক্ষে দিঘায় উপচে পড়েছে ভিড়। পরপর তিনদিন ছুটি থাকায় আগে থেকেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে সমুদ্রতটে। হোটেল-গেস্টহাউস প্রায় সবই বুকড। বহু পর্যটক এবং ভক্ত এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করে নিজের হাতে রথ টানার আশা নিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে এবারের রথযাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হবে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।

সতর্ক প্রশাসন

রথযাত্রার পথ দীর্ঘ নয়-প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার। তবে ভিড়ের চাপে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, অতএব ভিড় নিয়ন্ত্রণই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, বসানো হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা এবং তৈরি রাখা হয়েছে জরুরি পরিষেবাও।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ধর্মীয় উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ সতর্কতা এবং আগাম পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা-উৎসব হোক, তবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন