মালদা: ইংলিশবাজার থানার অন্তর্গত মধুঘাট এলাকায় ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Malda)। এক ভয়াবহ ছিনতাইয়ের চেষ্টায় সরকারি ব্যাঙ্ক কর্মী চন্দ্রিমা ঝা নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে, যখন চন্দ্রিমা অফিসে যাওয়ার পথে সহকর্মীর স্কুটারের পেছনে বসে ছিলেন। অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্কুটারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান।
বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁর উপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।চন্দ্রিমা ঝা সুজাপুর শাখার একটি সরকারি ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালে সহকর্মীর সঙ্গে স্কুটারে অফিসে যাচ্ছিলেন। মধুঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটকে ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সহকর্মী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে চন্দ্রিমা রাস্তায় ছিটকে পড়েন।
মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাঁর দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।পুলিশ ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে। অভিযুক্তরা হলেন সাবির শেখ, হানিফ শেখ এবং মোবারক শেখ। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে ইংলিশবাজার থানায় নিয়ে আসে।
বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে অভিযুক্তদের দেখা গেছে।চন্দ্রিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। চন্দ্রিমা ছিলেন পরিবারের স্তম্ভ। ব্যাঙ্কের চাকরির পাশাপাশি সংসার সামলাতেন। সহকর্মীরা তাঁকে একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধুঘাট এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা আগেও ঘটেছে। রাস্তায় যাতায়াতের সময় নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেন। বিশেষ করে মহিলা কর্মীরা অফিস যাতায়াতে ভয়ে থাকেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, দিনদুপুরে এমন ঘটনা ঘটা মানে প্রশাসনের নজরদারির অভাব।মালদা জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে। পুলিশ এলাকায় টহল বাড়িয়েছে যাতে এই ধরণের ঘটনা না ঘটে। জেলা প্রশাসনও ঘটনার তদন্তে নজর রাখছে।

