বঙ্গে পালাবদলের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের (Delhi) যৌথ উদ্যোগে গ্রামীণ উন্নয়নকে নতুন গতি দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার দিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জানান, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের” ঘোষিত নীতি মেনে পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের সুফল দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।
বর্তমানে চলমান একশো দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পের আওতায় চলতি মাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত শ্রমিকদের মজুরি প্রদান এবং চলমান কাজের অগ্রগতি বজায় রাখতে ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি যুক্ত নতুন ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্প চালু করা হবে। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ আরও বাড়বে এবং শ্রমিকদের আয় স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)-র অধীনে রাজ্যকে একাধিক বড় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের জন্য ৪৬৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং তৃতীয় পর্যায়ের জন্য ৩০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের গ্রামীণ রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে কেন্দ্রের দাবি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পশ্চিমবঙ্গে গ্রামোন্নয়ন খাতে মোট ১৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিষেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একশো দিনের কাজের প্রকল্প পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় রাজ্য সরকারও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্বল পরিকল্পনা, নিম্নমানের কাজ, পরিমাপের অসঙ্গতি এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব—এই সব সমস্যাগুলি দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কাজ শুরুর আগে রাজ্যের ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারীর ডেটাবেস সম্পূর্ণভাবে যাচাই ও সংশোধন করতে হবে। সক্রিয় শ্রমিকদের ১০০ শতাংশ ই-কেওয়াইসি (e-KYC) নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরা, জিও-ট্যাগিং এবং অনলাইন হিসেব ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের দাবি।




















