CBI Investigation: কাঁথিতে চরম চাঞ্চল্য, ভোটের আগে দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে সিবিআই হানা

শুক্রবার সকালে সিবিআই আধিকারিকেরা মারিশদা থানা এলাকায় দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা দিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তেই…

cbi investigation post poll violence probe kanthi debabrata panda buddhadeb maity, কাঁথিতে চরম চাঞ্চল্য, ভোটের আগে দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে সিবিআই হানা

শুক্রবার সকালে সিবিআই আধিকারিকেরা মারিশদা থানা এলাকায় দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা দিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তেই সিবিআই-য়ের এই হানা বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই অভিযানের কারণ জানানো হয়নি।

সিবিআই সূত্রে খবর, ওই দুই তৃণমূল নেতা বাড়িতে ছিলেন না। তবে ওই ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

   

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ কাঁথি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে, মারিশদা থানা এলাকার ভাজাচাউলির সিজুয়া গ্রামে পৌঁছয় সিবিআইয়ের একটি দল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রথমে যান তৃণমূল নেতা দেবব্রত পণ্ডার বাড়িতে। দেবব্রত বাড়ি না থাকায় তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে দেবব্রতের বাড়িতে ছিলেন সিবিআই আধিকারিকেরা।

সিবিআইয়ের আরও একটি দল হানা দেয় মারিশদার ইছাঘেরা গ্রামের তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধান বুদ্ধদেব মাইতির বাড়িতে। বুদ্ধদেবকেও পাওয়া যায়নি বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। বুদ্ধদেবের পরিবার সূত্রে খবর, ওই তৃণমূল নেতা বর্তমানে কর্মসূত্রে হাওড়ায় রয়েছেন। বুদ্ধদেবকে না পেলেও তাঁর বাবা নন্দদুলাল মাইতি, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বেশ কিছু সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ অন্যান্য নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়।

Covid: ফের ভয় ধরাচ্ছে কোভিড,কলকাতার বুকে আক্রান্ত ৫

গ্রামের রাস্তায় গাড়ি রেখে বিপুল বাহিনী নিয়ে সিবিআইয়ের এই অভিযান ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন। মারিশদা থানা এলাকা কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। আগামী ২৫ মে পঞ্চম দফায় এই কেন্দ্রে নির্বাচন।

২০২১ সালের ৩০ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণের আগে কাঁথি-৩ ব্লকের ভাজাচাউলিতে জনমেজয় দোলুই নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক ভাবে জনমেজয়কে নিজেদের দলীয় কর্মী বলে দাবি করে মারিশদা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কালীপদ শীট নামে স্থানীয় এক সিপিএম নেতা। পরে নিহতের ছেলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্তে নামে সিবিআই। বিধানসভা ভোটের সময় কাঁথি-৩ ব্লকের তৃণমূল নেতা নন্দদুলালকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে ওই তৃণমূল নেতাকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর পর ভোট মিটে যাওয়ার পর বিজেপি নেতা জনমেজয় দোলুইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী কালে স্থানীয় একটি ফাঁকা মাঠে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই ঘটনার তদন্তে কাঁথির ৩০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল সিবিআই। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি সভাপতি বিকাশ চন্দ্র বেজ, কাঁথি-৩ ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান এবং তৃণমূলের বুথ অঞ্চলের নেতারা। তবে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সিবিআইয়ের তলব এড়িয়ে যান তাঁরা।