
কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে সাজ সাজ রব। শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছে বিজেপি (Amit Shah)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দফায় দফায় রাজ্যে এসে শুরু করেছেন জনসংযোগ, লক্ষ্য বাংলার মসনদ। রাজ্যে এসেই বিজেপির ইস্তেহারে চমক দিতে চলেছেন শাহ। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ইশতেহার প্রকাশকে দলটি একটি বড় রাজনৈতিক ইভেন্ট হিসেবে সাজিয়েছে। নারী, যুবক এবং শিল্পায়ন, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজেপি এবার বাংলার মানুষের কাছে নতুন আশার আলো দেখাতে চাইছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী ইস্তেহারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি হল লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগী মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা করে সহায়তা। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অধীনে লক্ষ্মীর ভান্ডারে মাসিক ১৭০০ টাকা পান অনেক মহিলারা। বিজেপি বলছে, তারা ক্ষমতায় এলে এই পরিমাণ তিনগুণ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গৃহবধূ এবং মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা আরও বাড়বে বলে দলের নেতারা মনে করছেন।
আরও দেখুনঃ ‘আগে যুদ্ধবিরতি’! আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক স্থগিত করল ইরান
এছাড়া বেকার যুবকদের জন্যও মাসিক ৩,০০০ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা রয়েছে ইস্তেহারেড। বাংলায় বেকারত্বের সমস্যা যে কতটা গভীর, তা সকলেই জানেন। চাকরির স্ক্যাম, দেরি এবং অনিয়মের কারণে যুবসমাজ হতাশ। বিজেপি এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বলছে, তারা শুধু সাময়িক সাহায্যই নয়, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করবে। সরকারি শূন্যপদ পূরণ, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিল্পের মাধ্যমে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি এসবই ইস্তেহারের অংশ।
বিজেপির এই ইস্তেহার প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে বাদানুবাদ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছরে ভাতা দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রেখেছে। এবার বিজেপিও ক্ষমতায় এসে সেই ভাতার উপরে জোর দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে রাজ্যের ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ সময়ের আগেই পড়াশুনো ছেড়ে দিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয় কাজ খোঁজার জন্য। তারা বেশিরভাগই দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালায়।
রাজ্যে শিক্ষার বেহাল অবস্থা প্রায় ৮০০০ সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথাও ছাত্র নেই কোথায় আবার শিক্ষকের অভাব। রাজ্যের এই অবস্থায় যারা পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে তারা আগে রাজ্যের অর্থিনীতিকে জোরদার করার চেষ্টা করুক এমনটাই মনে করছেন তারা। শুধু ভাতা নয়, নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থান এবং বড় শিল্প না এলে রাজ্যের অর্থনীতি মজবুত হবে না বলেই মনে করছেন তারা।

