
কলকাতা: সদ্য প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। একটি মাত্র বুথ থেকে একসঙ্গে ৩৪০ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনার প্রতিবাদেই পথে নেমে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
জানা গিয়েছে, বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথে এই ঘটনাটি ঘটেছে।খসড়া ভোটার তালিকায় এই ৩৪০ জন ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, ওই ৩৪০ জনের নামই ভোটার তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে৷
বাদ পড়লেন স্বয়ং বিএলও (BLO)!
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা বুথ স্তরের আধিকারিক মহম্মদ শফিউল আলমের নামটিও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই গণহারে নাম বাতিলের খবর ছড়াতেই শতাধিক বাসিন্দা ওই আধিকারিকের বাড়ির সামনে এবং স্থানীয় রাস্তায় জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
কী অভিযোগ স্থানীয়দের?
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় আধিকারিকরা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কাজিুরুল মণ্ডল নামে এক ভুক্তভোগী ভোটার দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ১১টি বৈধ নথির মধ্যে যেকোনো একটি জমা দিলেই হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই ৩-৪টি করে প্রমাণপত্র জমা দিয়েছি, তা সত্ত্বেও আমাদের নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই কমিশনের একাংশ এই কাজ করেছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের এই ৫ নম্বর বুথে মোট রেজিস্টার্ড ভোটারের সংখ্যা ৯৯২ জন। এর মধ্যে মৃত্যু বা স্থানান্তরের কারণে ৩৮ জনের নাম স্বাভাবিক নিয়মেই বাদ গিয়েছে। মোট ৩৫৮ জন ভোটারকে তাঁদের যোগ্যতার প্রমাণের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। খসড়া তালিকায় ১৮টি সমস্যার সমাধান হলেও, বাকি ৩৪০ জনকে ২৩ তারিখ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। এরপরই তাঁদের নাম বাতিল করা হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
বিএলও (BLO) শফিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে এই ভোটারদের ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করেছিলেন এবং সমস্ত নথি পোর্টালে আপলোড করেছিলেন। তা সত্ত্বেও বেছে বেছে নামগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বিডিও (BDO)-র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয় যে, এ বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-র সঙ্গেও কোনওভাবে যোগাযোগ করা যায়নি বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন- পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী আরজিকর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩ হাজার! মিটবে বকেয়া ডিএ! ভোটের আগে BJP-র খসড়ায় আর কী কী চমক?

