
কলকাতা: আগামী ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর দু’দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে ঢেলে সাজাতেই এই সফর বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, অমিত শাহের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল—লোকসভা ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সঞ্চার করা। একই সঙ্গে বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা তৈরি করা হবে।
সফরের প্রথম দিন রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একটি দীর্ঘ সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সেই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটের ফলাফল, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং আগামী দিনের আন্দোলন ও কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। জেলা সভাপতিদের কাজের মূল্যায়ন, কর্মী নিয়োগ এবং বুথ ম্যানেজমেন্ট নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন অমিত শাহ।
দলীয় সূত্র আরও জানাচ্ছে, লোকসভা ভোটে যেসব বিধানসভা ও জেলায় বিজেপির ফল আশানুরূপ হয়নি, সেই জায়গাগুলিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে সংগঠনের রদবদল করা হতে পারে। প্রয়োজনে দায়িত্ব বদল, নতুন নেতৃত্ব সামনে আনা কিংবা সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিতও মিলতে পারে।
সফরের দ্বিতীয় দিন অমিত শাহের কর্মসূচি থাকবে আরও জনসংযোগমূলক। জনসভা, কর্মী সম্মেলন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি সরাসরি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং সংগঠনে গতি ফেরানোই এই দিনের মূল লক্ষ্য।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “এই সফর নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে চাইছে রাজ্যে সংগঠন আরও সক্রিয় ও লড়াকু হোক। অমিত শাহের উপস্থিতি কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
এছাড়াও, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক হিংসা, ভোট পরবর্তী অশান্তি এবং বিরোধী দলের কর্মীদের নিরাপত্তা এই সব বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অমিত শাহ এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, অমিত শাহের সফর ঘিরে শাসক শিবিরের তরফে রাজনৈতিক কটাক্ষ শুরু হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার এলেও রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটছে না। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, ধারাবাহিক সাংগঠনিক পর্যালোচনার মাধ্যমেই রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করা হবে।










