‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গে এবার একই সরকার’, বাংলায় পরিবর্তনের হুঙ্কার শাহের

Gorkha issue solution

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলায় প্রচারের পারদ আরও চড়ালেন অমিত শাহ। শনিবার নিউটাউনের একটি হোটেলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন তিনি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, প্রশাসন এবং বিশেষ করে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

কী কী বিষয় উঠে এল বিজেপির এই ‘চার্জশিটে’?

অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা: অনুপ্রবেশ ইস্যুকে এই চার্জশিটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অমিত শাহের দাবি, অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হওয়ার পর এখন পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই রাজ্যের নির্বাচন গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

   

আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা: সন্দেশখালি, হাঁসখালি এবং কামদুনির মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলির উল্লেখ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন শাহ। প্রশাসনের একাংশের দিকে আঙুল তুলে তাঁর অভিযোগ, “বাংলার প্রশাসনের অনেক অফিসারই এখন তৃণমূলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছেন।”

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

দেশজুড়ে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলায় তৈরি হওয়া জটিলতা প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন শাহ। তাঁর প্রশ্ন, “কেরল বা তামিলনাড়ুতে যেখানে কোনও সমস্যা হয়নি, সেখানে বাংলায় কেন সুপ্রিম কোর্টকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করতে হল? এর জবাব মুখ্যমন্ত্রীকেই দিতে হবে।”

‘ভয়মুক্তির লড়াই’: এবারের নির্বাচনকে ‘ভয়মুক্তির লড়াই’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ভোট প্রাণনাশ, সম্পত্তি হারানো, জনবিন্যাস বদল এবং রোজগার হারানোর ভয় থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তির ভোট।

শুভেন্দুর প্রশংসা ও ‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ’ সমীকরণ

এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তিনি জানান, শুভেন্দু রাজ্যজুড়ে ঘুরে তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় সরকার গড়বে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেন। শাহ বলেন, “অনেক বছর পর অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ, অর্থাৎ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় একই দলের সরকার গঠিত হতে চলেছে।”

একইসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটের সময় সহানুভূতি আদায়ের জন্য অসুস্থতার কথা বলা হলেও, এবার মানুষ আর তাতে ভুলবে না। সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রাক্কালে শাহের এই ‘চার্জশিট’ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।