মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিমের বাজি মোফাক্কেরুল? ওয়েইসির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা কাজে আসবে?

AIMIM candidate against Mamata

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে নিজেদের জমি শক্ত করতে আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (AIMIM)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১২টি আসনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তারা। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মিম নেতৃত্ব তুলে রেখেছে খোদ তৃণমূল নেত্রীর জন্য। মালদহ-কাণ্ডে অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল রাজি থাকলে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই তাঁকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিল ওয়েইসির দল!

মালদহ-কাণ্ডে সরব মিম

সম্প্রতি মালদহের ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি রাজ্য প্রশাসন এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলল মিম। দলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি তথা বাংলায় মিমের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আদিল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মালদহের ঘটনা প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ব্যর্থতার নজির। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সুকৌশলে সমস্ত দোষ মোফাক্কেরুলের কাঁধে চাপাচ্ছেন।

   

মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী মোফাক্কেরুল? AIMIM candidate against Mamata

আদিল হাসান আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মোফাক্কেরুল মিমের কোনও সক্রিয় সদস্য নন। কিন্তু তিনি যদি রাজি থাকেন, তবে দল তাঁকে টিকিট দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেক্ষেত্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই মিমের প্রধান মুখ হিসেবে তাঁকে প্রার্থী করা হবে বলে জানিয়েছেন আদিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মুখে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে এটি মিমের একটি বড়সড় কৌশলগত চাল।

ওয়েইসির বার্তা ও তৃণমূলের কটাক্ষ

এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও বাংলায় দলের রণকৌশল সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুব নেতা আদিল হাসানকেই। দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এর আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বাংলায় একজন শক্তিশালী মুসলিম নেতৃত্বের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তাঁদের এই রাজনৈতিক উদ্যোগ।

স্বভাবতই, মিমের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে শাসক শিবির। তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই ওয়েইসির দলকে ‘ভোট কাটুয়া’ এবং বিরোধী শিবিরের ‘বি টিম’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন ভোটবাক্সের অঙ্কে। এই নির্বাচনে মিম সত্যিই কোনও কেন্দ্রে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারবে, নাকি কেবল সীমিত প্রভাবেই আটকে থাকবে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।