অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) নিয়ে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্য সরকার ইউসিসির খসড়া বিল পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার পরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। শনিবার তিনি ইউসিসি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধীর চৌধুরীর দাবি, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত আইনের কিছু অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই কোনও নতুন আইন তৈরি করার আগে তার সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও প্রচলিত রীতিনীতির বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
কংগ্রেস নেতা বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর ফলে সমাজের বিভিন্ন অংশের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইউসিসির খসড়া বিল পরীক্ষা করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির দায়িত্ব থাকবে প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়া। সরকারের এই পদক্ষেপের পরই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অধীর চৌধুরী আরও বলেন, কোনও আইন মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার জন্য নয়, বরং সকলের অধিকার রক্ষা করার জন্য হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের মূল নীতি বজায় রেখেই যে কোনও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউসিসি কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতিনীতি ও ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি দেশে আইনের ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। তাঁদের মতে, একই ধরনের নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের আইন প্রয়োজন। তবে বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, আইন প্রণয়নের আগে সব সম্প্রদায়ের মতামত নেওয়া উচিত।





