Home Politics বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কে?

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে কে?

west-bengal-bjp-cm-candidate-speculation-election-result-2026

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র যেন চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে। (BJP CM)বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার ট্রেন্ড যত সামনে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্যে এক বড় পালাবদলের সম্ভাবনা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৯২টি আসনে, আর তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৯৬টিতে। এই পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে?

- Advertisement -

তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর এবার সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আর সেই কারণেই বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম সামনে আসছে। এর আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংকল্পপত্র প্রকাশের দিন জানিয়েছিলেন, বিজেপি জিতলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলারই কেউ। এই বক্তব্যের পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃমান রক্ষার লড়াইয়ে মুম্বই-লখনউ

এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর প্রভাব সব মিলিয়ে তাঁকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে তিনি লড়ছেন এবং ইতিমধ্যেই এগিয়েও রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দলের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হলে অজয় মুখার্জির পর দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে মেদিনীপুর।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে আসছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম। আরএসএসের আদর্শে গড়ে ওঠা এই নেতা গত কয়েক বছরে সংগঠনকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে এই দৌড়ে অন্যতম করে তুলেছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামও এই তালিকায় রয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূল স্তরে লড়াই গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও যথেষ্ট, যা তাঁকে এই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে আসা নিশীথ প্রামাণিকও সম্ভাব্য মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। একইভাবে, আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলও এই দৌড়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য এবং সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

অন্যদিকে, প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ও জনপ্রিয় মুখ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। শহুরে ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনিও একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে এই মুহূর্তে সবটাই জল্পনা। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফল প্রকাশের পর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে।

Follow on Google