বিজয় হাজারে ট্রফিতে প্রত্যাবর্তনেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহারথী রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। প্রথম ম্যাচে দু’জনের ব্যাট থেকেই এসেছিল নজরকাড়া শতরান। কিন্তু ঘরোয়া লিস্ট-এ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ছবিটা আর একরকম। একজন যেখানে আবারও রানের খাতা ভরালেন, অন্যজন সেখানে ফিরলেন হতাশা নিয়ে।
রেকর্ড দরে নাইট শিবিরে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়কটের ডাক সমর্থকদের
বক্সিং-ডে’তে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে মুম্বইয়ের হয়ে ওপেন করতে নেমে গোল্ডেন ডাকের শিকার হলেন রোহিত শর্মা। সিকিমের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৯৪ বলে ১৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর এই ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলেই দেবেন্দ্র সিং বোরার বাউন্সার হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। আগের ম্যাচের মতোই তাঁর ওপেনিং সঙ্গী ছিলেন তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, কিন্তু শুরুটাই আর রাঙানো হল না ‘হিটম্যান’-এর।
অন্যদিকে বেঙ্গালুরুতে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে দিল্লির জার্সিতে ফের নিজের ছন্দের ঝলক দেখালেন বিরাট কোহলি। ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৬১ বলে ঝকঝকে ৭৭ রান করেন তিনি। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ধরলে শেষ পাঁচ ম্যাচে টানা অর্ধশতরান এল ‘দ্য রানমেশিন’র ব্যাটে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, প্রথম ম্যাচের মতোই আবার তিন অঙ্ক ছোঁবেন কোহলি। কিন্তু বাঁ-হাতি স্পিনার বিশাল জয়সওয়ালের বলে স্টাম্পড হয়ে ইনিংস শেষ হয় তাঁর।
????: Virat Kohli looks disappointed even after scoring 77. ????
That unmatched hunger — even in domestic cricket ????????#ViratKohli #VijayHazareTrophy pic.twitter.com/HRtcIPc1w1— Indian Cricket Team (@TeamIndia_in) December 26, 2025
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বুধবার অন্ধ্রর বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রায় দেড় দশক পর ঘরোয়া লিস্ট-এ ক্রিকেটে ফিরে ১০১ বলে ১৩১ রান করেছিলেন কোহলি। তাঁর সেই ইনিংসের সৌজন্যে ২৯৯ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতে দিল্লি। একই দিনে সিকিমের বিরুদ্ধে রোহিতের ১৫৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ২৩৭ রান তাড়া করে জয় পায় মুম্বই।
প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই কোহলি ছুঁয়েছিলেন এক বিশেষ মাইলস্টোন। সচিন তেন্ডুলকরের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১৬,০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে থাকতে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ প্র্যাকটিসে থাকার যে বার্তা বোর্ড দিয়েছে, সেই নির্দেশ মেনেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে অংশগ্রহণ ‘রো-কো’-র।
তবে এই অংশগ্রহণ যে সীমিত, সেটাও স্পষ্ট। মুম্বই প্রথম দু’টি ম্যাচের জন্যই স্কোয়াডে রেখেছিল রোহিতকে। একইভাবে দিল্লিও প্রথম দু’টি ম্যাচের স্কোয়াডে রেখেছিল কোহলিকে। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে তাই প্রশ্ন উঠছে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে কি আবার দেখা যাবে এই দুই তারকাকে, নাকি বিজয় হাজারেতে তাঁদের অধ্যায় আপাতত এখানেই শেষ?




















