TMC: টাফ বীরভূম কে সামলাবে? তৃণমূলে দ্বিতীয় কেষ্টদা নেই

গোরু পাচার মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এখন সিবিআই হেফাজতে। তিনি জেরায় কী বলবেন তা নিয়ে শাসক দলের অন্দরে চরম উদ্বেগ। যদিও তৃণমূল জেলা নেতাদের একাংশ মনে করছেন, যা বলবার কেষ্টদা’র দেহরক্ষীদের সবথেকে ঘনিষ্ঠ সায়গল হোসেন উগরে দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি ধরে কেষ্টদা’কে জেরা করে বাকি তথ্য মিলিয়ে দেখবে সিবিআই।

কী সেই তথ্য? সিবিআইয়ের কাছে মূল লক্ষ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই জেলা মুর্শিদাবাদ ও মালদায় থাকা কোন কোন বিএসএফ অফিসার গোরু পাচারে জড়িত। সিবিআই ইঙ্গিত করছে এর আগে ধৃত বিএসএফ অফিসার সতীশ কুমারের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তাতে স্পষ্ট বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কারা অনুব্রতর সঙ্গে গোরু পাচারের বিষয়ে জড়িত।

   

এই জেরা পর্বের মাঝে রাজনৈতিক টালমাটাল শুরু হতে চলেছে বীরভূমে। এই জেলার টাফ রাজনীতি সামাল দিতে কেষ্টদা’র জুড়ি মেলা কঠিন বলেই মনে করছেন জেলার নেতারা। সেক্ষেত্রে দল কাকে দায়িত্ব দেবে তা নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। তৃণমূলের অন্দরে ভেসে আসছে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নাম। কারণ, তাঁর প্রভাব কিছুটা আছে। তবে অনুব্রত ওরফে কেষ্ট ম়ন্ডলের ধারে পাশে তেমন কেউ নেই দলের।

তৃ়ণমূল কি ফের অনুব্রত বিরোধী কাজল শেখকে নামাবে? উঠছে এই প্রশ্ন। কারণ বীরভূমের কঠিন সংঘর্ষময় রাজনৈতিক চরিত্র। এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো নেতা কাজল শেখ।

উল্টো দিকে বীরভূমে একটি আসন বিজেপির। দুূবরাজপুরে বিজেপি বিধায়ক থাকলেও দল হিসেবে গত পুরভোটে পুরো জেলায় নিশ্চিহ্ন বিজেপি। তায় আবার বিজেপির নেতা দুধকুমার মণ্ডল এখন বিদ্রোহী।

পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেস একতরফা সব কটি পুরবোর্ড দখল করলেও সিপিআইএম উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। বাম আমলে বীরভূমে একচ্ছত্র ক্ষমতার সময় সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ ডা রামচন্দ্র ডোম এখনও সক্রিয়। তৃ়ণমূল কংগ্রেসের হিসেব দীর্ঘ সময়ের রাজনীতিক রামচন্দ্র ডোম বরবার যেমন গত এক দশক বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সংগঠন চালিয়ে গেছেন তাঁকে সামনে রে়খে সিপিআইএম নামতে চলেছে। বাম শিবিরের অপর মুখ নানুরের প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামলী প্রধান।

কংগ্রেসের হয়ে অধীর চৌধুরী নামতে পারেন বীরভূমে। এমনও সম্ভাবনা ধরে রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন