সুরঙ্গ ধসে ৪৮ ঘণ্টা পরেও আটকা ৮ শ্রমিক, জীবনমরণ লড়াইয়ে সেনা ও এনডিআরএফ

টেলেঙ্গানার নাগরকুর্নুলে শ্রীসাইলাম বাঁধের পিছনে নির্মিত ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুরঙ্গ ধসে আটকে পড়েছেন আটজন শ্রমিক। শনিবার সকাল ১১টার দিকে সুরঙ্গের মেরামতের কাজ চলাকালীন হঠাৎ ধসে পড়ে সুরঙ্গটি। ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
tunnel-collapse-48-hours-later-8-workers-trapped-life-death-struggle-army-ndrf

টেলেঙ্গানার নাগরকুর্নুলে শ্রীসাইলাম বাঁধের পিছনে নির্মিত ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুরঙ্গ ধসে আটকে পড়েছেন আটজন শ্রমিক। শনিবার সকাল ১১টার দিকে সুরঙ্গের মেরামতের কাজ চলাকালীন হঠাৎ ধসে পড়ে সুরঙ্গটি। এই দুর্ঘটনায় আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে চারজন সাধারণ শ্রমিক এবং বাকি চারজন নির্মাণ কোম্পানির কর্মী। প্রায় ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন, এবং তাদের উদ্ধার করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, সুরঙ্গের ভেতর জল এবং কাদা জমে যাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তাদের বাঁচানোর সম্ভাবনা খুবই কম, তবে আমরা আশা ছাড়ছি না।”

   

উদ্ধার কাজের জন্য ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য এবং নৌ বাহিনীর কমান্ডো দল ইতোমধ্যেই উদ্ধার কাজে নেমেছে। এছাড়া, উত্তরাখণ্ডের ২০২৩ সালের সিল্কিয়ার সুরঙ্গ অপারেশন দলের ছয় সদস্যও এই উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন। তারা একযোগভাবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকার্যের জন্য নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন।

মন্ত্রী কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, “সুরঙ্গের মধ্যে ঢুকতে কাদা এবং পানির স্তূপে বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা রাবার টিউব ও কাঠের পাটাতন ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তবে, পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক। কাদা জমে যাওয়ায় সুরঙ্গের ভেতর প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, সুরঙ্গের ভেতর জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে উদ্ধারকাজে কোনো বাধা না আসে এবং আটকেপড়া শ্রমিকদের দ্রুত নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।

কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে ঘটনার প্রেক্ষাপটে সকল কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যেন পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং উদ্ধারকাজে যেকোনো ধরনের অসুবিধা এড়ানো যায়।

এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা সুরঙ্গের ১৩ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, তবে জমে থাকা কাদা ও পানি ধ্বংসস্তুপের মধ্যে প্রবেশ করতে বাধা সৃষ্টি করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, উদ্ধার কাজ আরও বিলম্ব হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google