বিজেপির ‘অপারেশন লোটাসে’ মমতার জনপ্রিয়তা অক্ষুন্ন! দাবি সৌগতর

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ (Operation Lotus)রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে সরব হয়েছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, এটি বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর অংশ।…

saugata-roy-on-bjp-operation-lotus-mamata-popularity

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ (Operation Lotus)রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে সরব হয়েছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, এটি বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর অংশ। বিজেপি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রলোভন দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন। যাদের নীতি-আদর্শ দৃঢ় নয়, যারা দুর্বল চরিত্রের, তারাই এই প্রলোভনে পা দিচ্ছেন এবং দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সৌগতর মতে বিজেপির অপারেশন লোটাস মমতার নেতৃত্বে কোনও ফাটল ধরাতে পারেনি।

আরও দেখুনঃ ‘আর সহ্য নয়’, পার্ক সার্কাস প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দুর

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর এই ‘অপারেশন লোটাস’ কিছুটা সফল হয়েছে, কিন্তু এতে তৃণমূলের মূল শক্তি অটুট রয়েছে।সৌগত রায় বলেন, “যারা চলে যাচ্ছেন, তাদের বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। তাই তারা দল ছাড়ছেন। বিজেপি তাদের নেবে কি না, তা আমি জানি না। এখনও কিছু স্থির হয়নি। তারা আলাদা ব্লকে বসবে বলে জানিয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।

   

দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। দলের সিংহভাগ বিধায়ক সাংসদ ইতিমধ্যে দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কেউ কেউ দলত্যাগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সৌগত রায়ের মতো প্রবীণ নেতারা মনে করেন, এসব ঘটনা বাইরের শক্তির ষড়যন্ত্রের ফল।পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘অপারেশন লোটাস’ শব্দটি নতুন নয়।

বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে ভাঙিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর যে কৌশল নেয়, তাকেই এই নামে অভিহিত করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি তাদের কয়েকজন নেতাকে টাকা, পদ এবং নিরাপত্তার প্রলোভন দেখিয়েছে। যারা নীতির প্রশ্নে দৃঢ়, তারা এসব প্রলোভনে পা দেননি। কিন্তু যাদের মধ্যে আদর্শের দৃঢ়তা কম, তারাই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। সৌগত রায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তৃণমূল এই ভাঙনকে গুরুত্ব দিচ্ছে কিন্তু একে দলের জন্য মারাত্মক হুমকি মনে করছে না।

রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। স্থানীয় স্তরে অসন্তোষ, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাত এসব কারণে কিছু নেতা-কর্মী মনে করছেন যে, দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশ্বাস করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল এখনও জনগণের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

বিদ্রোহীদের চলে যাওয়া দলকে শুদ্ধ করবে বলেও অনেকে মনে করেন।সৌগত রায় আরও বলেছেন যে, যারা চলে যাচ্ছেন তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপি তাদের গ্রহণ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। কেউ কেউ আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে বসে কাজ করার কথা ভাবছেন। এতে করে রাজ্য বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তৃণমূলের দাবি, এই বিদ্রোহীরা দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলের মধ্যে যে সবাই এক নয়, তা এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে। তবে দলের মূল কাঠামো এখনও শক্তিশালী।