কলকাতা: NEET প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানাতে এবার সরাসরি দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবারই তাঁর রাজধানীতে পৌঁছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ধর্না মঞ্চে যোগ দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য থেকে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম জাতীয় স্তরের কোনও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে সরাসরি রাস্তায় নেমে সামিল হতে চলেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ
এর আগে নিট ইস্যুতে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি লেখেন, “আমি প্রথম থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পাশে এবং তাঁদের আন্দোলনের সমর্থনে দাঁড়িয়ে আছি। তাঁদের লড়াই শুধু নিট কেলেঙ্কারিতে ন্যায়বিচারের জন্য নয়, এটি দেশের প্রতিটি তরুণ ভারতীয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।”
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়েছে, পেলেট গান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভয় পেয়েই কেন্দ্র যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সরকারকে তুলোধোনা
কেন্দ্রের নীতি ও সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বললেও, সিবিআই সম্প্রতি জানিয়েছে যে ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় মূল চক্রীর বিরুদ্ধে নাকি তারা কোনও প্রমাণই পায়নি! লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্তরা যদি পার পেয়ে যান, তবে সরকার আসলে কাদের রক্ষা করছে? এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বাঁচাতে কেন কেন্দ্র এত মরিয়া, তা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সব মিলিয়ে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতার এই দিল্লি সফর জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




