গোল পেলেন সেনেগালের তরুণ তুর্কি, যদিও শেষ হাসি হাসল ফ্রান্স

সেনেগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপ মঞ্চে ফের আলোচনায় ফরাসি তারকা।

France vs Senegal

সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: জয় দিয়েই বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) অভিযান শুরু করল ফ্রান্স। সূচি অনুসারে বুধবার রাতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল গতবারের ফাইনালিস্টরা। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল সাদিও মানের সেনেগাল। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এই ম্যাচ। যেখানে সম্পূর্ণ সময়ের শেষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দুইবারের বিশ্বজয়ীরা। এদিন ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়াও একটি গোল করে যান বিকল্প হিসেবে মাঠে আসা ব্রাদলে বারকোলা। অন্যদিকে, সেনেগালের হয়ে ব্যবধান কমান তরুণ ফুটবলার ইব্রাহিম এমবায়ে।

ধারে ও ভারে আফ্রিকার এই প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেকটাই এখানে ছিল দিদিয়ের ডেসচ্যাম্পসের ছেলেরা। তবুও গত ২০০২ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল সেনেগালের ফুটবলারদের। সেবার একটি গোলের ব্যবধানে ফরাসিদের টেক্কা দিয়েছিল তাঁরা। সেইমতো নিজেদের একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ পাপে থিয়াও। তবে ওসমান ডেম্বেলে থেকে শুরু করে জোয়া কুন্দের মতো তারকা ভরপুর দলকে টেক্কা দেওয়া যে সহজ হবে না সেটা ভালো মতোই জানতেন সকলে। তাই প্রথম থেকেই যথেষ্ট সাবধানী ভঙ্গিতে ম্যাচ শুরু করেছিল সেনেগাল। প্রথমদিকে ফ্রান্সের ফুটবলারদের কাছেই বলের দখল থাকলেও সময় এগোনোর সাথে সাথেই চাপ বাড়াতে থাকে সেনেগাল।

   

ম্যাচের প্রায় চব্বিশ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন নিকোলাস জ্যাকসন। তবে ভাগ্য সহায় থাকেনি। পোস্টে ধাক্কা খায় সেই শট। তারপর কয়েকবার সেনেগালের রক্ষণভাগে হানা দিয়েছিলেন এমবাপ্পে থেকে শুরু করে আদ্রিয়ান রাবিওটরা। কিন্তু গোলের মুখ খোলা সম্ভব হয়নি। যারফলে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ফলাফলে। তারপর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার গতি বাড়িয়ে ঘন ঘন আক্রমণে উঠে আসতে থাকে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটের মাথায় আসে প্রথম গোল। দলকে এগিয়ে দিয়ে যান তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৭৯ মিনিটের মাথায় পরিবর্ত হিসেবে মাঠে আসেন ব্রাদলে বারকোলা।

মাত্র মিনিট তিনেকের মধ্যেই মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে সোজা প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে পড়েছিলেন বছর তেইশের এই ফুটবলার। যথেষ্ট দক্ষতার সাথে সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে বোকা বানিয়ে বল ঠেলে দেন গোলের মধ্যে। যালফলে ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি ব্রিগেড। নির্ধারিত নব্বই মিনিট পর্যন্ত এই ফলাফল বজায় থাকার পর অতিরিক্ত ৮ মিনিট সময় সংযুক্ত করা হয়েছিল ম্যাচ রেফারির তরফে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই আচমকা আক্রমণে উঠে আসে সেনেগাল। তারপর ৯৫ মিনিটের মাথায় মাইক ম্যাগনানকে পরাজিত করে গোল করে যান এমবায়ে। যেটা খুশি করেনি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের ডেসচ্যাম্পসকে। অবশ্য সেই গোল হজমের এক মিনিটের মধ্যেই রাবিওটের বল ধরে ডি বক্সের বাইরে থেকে দুরপাল্লার শট নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। অনায়াসেই সেটি চলে গিয়েছিল গোলের মধ্যে।