ফ্লাইওভারের নিচে উচ্ছেদ: ভাড়া নিয়ে কেন নোটিশ? প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের

কলকাতা: একদিকে সরকারি নিয়ম মেনে নিয়মিত ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানো, অন্যদিকে মাথার ওপর হঠাৎ নেমে এল উচ্ছেদের খাঁড়া। কলকাতার ১৫টিরও বেশি…

কলকাতা: একদিকে সরকারি নিয়ম মেনে নিয়মিত ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানো, অন্যদিকে মাথার ওপর হঠাৎ নেমে এল উচ্ছেদের খাঁড়া। কলকাতার ১৫টিরও বেশি ফ্লাইওভার ও সেতুর নিচে সরকারি অনুমতি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করা হাজার হাজার ব্যবসায়ী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। কলকাতা পুরসভার জারি করা সাম্প্রতিক উচ্ছেদ নোটিশকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য। (Kolkata Flyover Market Eviction)

বৈধ বরাদ্দপত্র হাতে অনিশ্চিত ব্যবসায়ীরা

কসবা বিজন সেতুর নিচের ‘কেআইটি মার্কেট’ হোক কিংবা শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের ‘শিশির মার্কেট’—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দশক আগে সরকারি সংস্থা (কেআইটি বা কেএমসি) তাঁদের দোকান বরাদ্দ দিয়েছিল। বিজন সেতুর প্রায় ৬০০ এবং শিয়ালদহ শিশির মার্কেটের ৯০০-রও বেশি ব্যবসায়ী নিয়মিত সরকারি কোষাগারে ভাড়া জমা দিচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ এই উচ্ছেদের নির্দেশ কেন? ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, “সরকার যদি ভাড়া নেয়, তবে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে কেন?”

   

কী বলছে পুরসভা?

পুরসভা সূত্রে খবর, ফ্লাইওভারের স্থায়িত্ব পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতেই রাজ্য সরকার এই জায়গাগুলি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “ফ্লাইওভারের স্তম্ভ ও মূল কাঠামোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়মিত পরিদর্শন জরুরি। দোকানের ভিড়ে স্তম্ভের ফাটল বা ক্ষয়রোগ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাই ফ্লাইওভার বা সেতুর নিচে কোনো দোকান রাখা সম্ভব নয়।”

অস্পষ্টতা ও ক্ষোভ

ব্যবসায়ীদের বড় অভিযোগ, পুরসভা তাঁদের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিচ্ছে না। পুর আধিকারিকদের সঙ্গে দু’দফা বৈঠকের পরেও বৈধ দোকানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও, বিকল্প পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা প্রশাসনের কাছে আছে কি না, সে বিষয়েও নীরব পুরসভা।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি

কলকাতা জুড়ে ফ্লাইওভারের নিচে গড়ে ওঠা হাজার হাজার দোকানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবার। শিয়ালদহ শিশির মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক নকুল কুণ্ডু বলেন, “আমরা শুধু ভাড়াই দিই না, সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ও কর দিয়ে ব্যবসা করছি। আমাদের কি এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে?”

প্রশাসনিক মহলের মতে, শহরের পরিকাঠামো সুরক্ষার জন্য ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা খালি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইন মেনে ব্যবসা করা নাগরিকদের দীর্ঘদিনের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মানবিক ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এখন পুরসভা কর্তৃপক্ষ কবে এই অনিশ্চয়তা কাটাতে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে শহরের হাজার হাজার ব্যবসায়ী পরিবার।