পুরুলিয়া: ভোটের ঠিক আগে পুরুলিয়া জেলার রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙনের ছবি সামনে এল। (TMC leaders join BJP)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন জনসভার আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন পদাধিকারী। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
শনিবার পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতো। তাঁদের হাত থেকেই দলীয় পতাকা তুলে নেন তৃণমূল থেকে আসা নেতারা। যোগদানকারীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাতো, রঘুনাথপুর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি অমর মাহাতো, তৃণমূলের বিদ্যুৎ পর্ষদ ইউনিয়নের প্রাক্তন সহ-সম্পাদক নৃপতি রাজোয়াড় এবং সক্রিয় নেতা রাজেশ মাহাতো।
আরও দেখুনঃ TTE vs TC: রেলের সেরা চাকরি কোনটি? বেতন ও কাজের মধ্যে পার্থক্য জানুন
দলবদলের পরই শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন হলধর মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এখানে কর্মীদের কোনও সম্মান নেই, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাও সম্ভব নয়।” একই সুরে অমর মাহাতো এবং নৃপতি রাজোয়াড়ও দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব কমে গিয়েছে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থই প্রধান হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকেই তাঁরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এই যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের অন্দরে এখন দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সৎ মানুষরা সেখানে টিকে থাকতে পারছেন না। রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং মানুষ এখন উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার আগে এই যোগদান প্রমাণ করছে যে পুরুলিয়ার মানুষ তৃণমূলের উপর আস্থা হারাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরুলিয়া জেলার রাজনীতিতে মাহাতো সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলধর মাহাতো এবং অমর মাহাতোর মতো নেতাদের দলবদল তৃণমূলের গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রঘুনাথপুর ও জেলা পরিষদ স্তরে তাঁদের ব্যক্তিগত প্রভাব বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















