নদীয়া: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও এলাকায় দাপট কমেনি। ( Chinu Roy)এমনই অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। মহিলাকে মারধর, গালিগালাজ এবং তোলাবাজির অভিযোগে এবার নদীয়ার তাহেরপুর থানা এলাকার এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম চিন্ময় রায় ওরফে চিনু। শুক্রবার তাকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাহেরপুর থানার অন্তর্গত বাদকুল্লা পঞ্চগ্রাম এলাকার বাসিন্দা রুপা তরফদার ও তাঁর পরিবার বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মানজন ঘাট থেকে স্নান সেরে টোটো করে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, বাদকুল্লা পেট্রোল পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের একটি ব্যাগ আচমকাই সামান্য ধাক্কা লাগে চিনু রায়ের গায়ে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সূত্রপাত।
আরও দেখুনঃ জনগণনার আগে নতুন অ্যাপ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়
অভিযোগ, এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে বাদকুল্লা নোয়াপুকুরিয়া এলাকার জয়শ্রী ক্লাবের সামনে টোটোটিকে আটকে দেয় অভিযুক্ত। কোনও কথা না বলেই প্রথমে টোটো চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে রুপা তরফদার ও তাঁর জামাইবাবুকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বেধড়ক মারধর করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার পর আতঙ্কিত পরিবার তাহেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চিনু রায়কে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ধৃতকে রানাঘাট বিচার বিভাগীয় আদালতে পেশ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চিনু রায় এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচিত। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং নানা অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ উঠেছিল বলেও দাবি করেছেন অনেকেই। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত সে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের ভূমিকা বদলাতেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল ওই নেতা।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদনও জানানো হয়েছে আদালতে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও রকম মস্তানি, গুন্ডামি বা অপরাধমূলক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে মহিলা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিচ্ছে।
এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এলাকায় একাংশের নেতারা প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাতেন। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, প্রকাশ্যে রাস্তায় মহিলার উপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা চাইছেন, দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পুরনো অভিযোগ সামনে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নদীয়ার এই ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















