তৃণমূলের কয়েক’শ কোটির ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবার কার হাতে?

বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ঠিক এক মাস কেটে গেছে। কিন্তু এই এক মাসের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে যে ধরনের সমীকরণ বদলেছে, (Tmc party fund) তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
TMC’s Financial Power Structure Undergoes Major Shift

বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ঠিক এক মাস কেটে গেছে। কিন্তু এই এক মাসের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে যে ধরনের সমীকরণ বদলেছে, (Tmc party fund) তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় যে ঘাসফুল শিবিরকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হতো, বর্তমানে সেই সংগঠন নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং নতুন গোষ্ঠীর উত্থান সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংগঠনের উপর এখন ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠরা। যদিও এই দাবি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি যে বাড়ছে, তা একাধিক সূত্রে স্পষ্ট। বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন উঠছে দলের প্রতীক নিয়েই। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কি আদৌ আগের মতোই থাকবে? নাকি ভবিষ্যতে দলীয় বিভাজনের পরিস্থিতিতে প্রতীকের উপরেও প্রভাব পড়তে পারে? যদিও এই ধরনের আশঙ্কাকে অনেকেই অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন, তবুও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রতীক ও পরিচয়ের প্রশ্ন।

   

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না আসল সংগঠন কোনটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, এখন যেন দুই ধরনের পরিচয় তৈরি হচ্ছে একদিকে “তৃণমূল (ম)”, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ, অন্যদিকে “তৃণমূল (ঋ)”, অর্থাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী। যদিও এই বিভাজন আনুষ্ঠানিক নয়, কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় এটি ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে।

দলের ভেতরের আরেকটি বড় উদ্বেগ এখন আর্থিক বিষয় ঘিরে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের বিশাল তহবিল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নাকি নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই তহবিলের উপরেও যদি গোষ্ঠীগত প্রভাব পড়ে, তবে সংগঠন পরিচালনায় বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। দলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।

কালীঘাট ঘনিষ্ঠ এক নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, দিদি নাকি এখন অনেক বিষয় নিয়েই পুনর্মূল্যায়ন করছেন। তাঁর আক্ষেপ, গত পনেরো বছরে দলের শীর্ষস্তরের অনেক নেতা ও মন্ত্রী বিপুল আর্থিক শক্তি অর্জন করলেও সংকটের সময়ে তাঁদের উপর ভরসা করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “সুদিনে সবাই পাশে থাকে, কিন্তু দুর্দিনে তিজোরি কেউই খুলবে না।”

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google