কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড়সড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। (TMC Candidate List)মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশ্যে আসা এই তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাহাড়ি এলাকাগুলিতে দল প্রার্থী দেবে না। কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং এই তিন কেন্দ্রে অনিত থাপার নেতৃত্বে স্থানীয় শক্তিকেই সমর্থন করা হবে। ফলে এই তিনটি আসন বাদ দিয়ে বাকি ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা আসে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে ঘিরে। তিনি জানান, এবারও তিনি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই নির্বাচনে লড়বেন। এই কেন্দ্র তাঁর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে ভবানীপুরে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দল একপ্রকার স্পষ্ট বার্তা দিল যে, এই আসন ধরে রাখাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।
এবারের প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক রয়েছে। ডোমকল কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরকে। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। করিমপুরে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখকে রাজনৈতিক ময়দানে নামানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কালীগঞ্জে আলিফা আহমেদ, তেহট্টে দিলীপ পোদ্দার এবং নাকাশিপাড়ায় কল্লোল খাঁ এই নামগুলিও তালিকায় উল্লেখযোগ্য। শান্তিপুরে ব্রজকিশোর গোস্বামীকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলে দলের সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক আসনেও নজরকাড়া প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। হাবড়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বীজপুরে সুবোধ অধিকারী, নৈহাটিতে সনৎ দে, ভাটপাড়ায় অমিত গুপ্তা এবং জগদ্দলে সোমনাথ শ্যাম এই নামগুলি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এছাড়াও নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী, খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত এবং দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের তালিকায় তৃণমূল একদিকে যেমন অভিজ্ঞ মুখদের রেখেছে, অন্যদিকে নতুন এবং তরুণ মুখদেরও সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে ভোটারদের কাছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে দল। বিশেষ করে বিভিন্ন পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তি দলীয় কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে তৃণমূলের দাবি, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার বার্তা নিয়েই তারা এবার ভোটের ময়দানে নামছে।




















