
গভীর রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। ব্যালট বক্স (Ballot Box Controversy in Kolkata) আনা-নেওয়া ঘিরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা, যা দ্রুতই রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস গুরুতর অভিযোগ তোলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। তাদের দাবি, যে ঘরে কোনও সিসিটিভি নজরদারি নেই, সেখানেই রাখা হয়েছে অন্তত আটটি ব্যালট বক্স, যা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ব্যালট বক্স আনা হয়। সেই সময় উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে এবং পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়াই ওই বক্সগুলি একটি ঘরে রাখা হয়, যেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তৃণমূলের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ব্যালট বক্সের নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, (Ballot Box Controversy in Kolkata) সকল প্রার্থীর উপস্থিতিতে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যালট বক্স স্থানান্তর করা হোক। কিন্তু অভিযোগ, সেই দাবি উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনের তরফে দ্রুততার সঙ্গে বক্সগুলি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ঘটনাস্থলেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, যার জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা হস্তক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। যদিও কিছু সময়ের জন্য এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে, পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়। ঘটনার পর রাত আরও গভীর হলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী হঠাৎই স্ট্রংরুম পরিদর্শনে আসেন। তাঁর আগমন ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে দেখেই সেখানে উপস্থিত কিছু তৃণমূল কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেন।
পূর্ণিমা চক্রবর্তীর আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। বরং তাঁকেই ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলা হয়। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পুরো ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করে তুলে ধরেন। লাইভে তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁকে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ব্যালট বক্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করছেন। ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং তা রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে।
এই ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।







