সাধারণের মাথায় বাড়তি বোঝা, পেট্রোল-ডিজেল দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত, LPG-তেও ধাক্কা

মাসের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিল (Petrol-Diesel price hike) জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির খবর। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে হঠাৎই প্রায় ১ হাজার…

Middle East war fuel panic India

মাসের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিল (Petrol-Diesel price hike) জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির খবর। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে হঠাৎই প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি ঘটেছে, যা হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য বড়সড় চাপ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে অটো এলপিজির দামও, ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এখানেই কি শেষ, নাকি এই মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ এবার সাধারণ গৃহস্থের রান্নাঘরেও পৌঁছতে চলেছে?

সরকারি সূত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ইঙ্গিত মিলছে, পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের পর এবার গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়তে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এই ক্ষেত্রে দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে, কারণ রান্নার গ্যাস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ।

   

এতেই শেষ নয়, একইসঙ্গে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম(Petrol-Diesel price hike) বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তাহলে প্রায় চার বছর পর দেশে ফের জ্বালানির বড়সড় মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শেষবার ২০২২ সালে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বড় প্রভাব। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে প্রশমিত না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি চলছে, তবুও সম্পর্কের টানাপোড়েন যে কোনও সময় নতুন করে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের ক্রুড অয়েল পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে এই কারণগুলিই বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির উপরও ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।