পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের (Sujit Basu) একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু (Sujit Basu)। এই মামলায় ইডির বারবার তলব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তিনি, কারণ কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত তাঁর পক্ষে একটি অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। যদিও একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে।
ঘটনার সূত্রপাত পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে। (Sujit Basu) অভিযোগ, পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে, যার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। যদিও এই মামলায় দু’বছর আগে সিবিআই চার্জশিট জমা দিলেও সেখানে সুজিত বসুর নাম ছিল না বলে জানা গেছে। তবুও পরবর্তীতে ইডি নতুন করে তদন্ত শুরু করে তাঁকে একাধিকবার তলব করে। ইডির পক্ষ থেকে ২ এপ্রিল থেকে বারবার সমন পাঠিয়ে সুজিত বসুকে হাজিরা দিতে বলা হয়। তবে ভোটের মরশুমে তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি একবার তিনি নিজের পরিবর্তে ছেলেকে ইডি দফতরে পাঠান। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা সেই উপস্থিতি গ্রহণ করেনি এবং স্পষ্ট জানায়, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিতেই হবে।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ইডি আবারও তাঁকে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাজিরার জন্য তলব করে। ঠিক সেই সময়ই সুজিত বসু কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়, তিনি বর্তমানে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত একজন প্রার্থী, তাই ভোট শেষ হওয়ার পর তাঁকে হাজিরার সুযোগ দেওয়া হোক। আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একাধিক সমনের পরেও তিনি ইডির সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে সাময়িক সময় দেওয়া উচিত। এই যুক্তি বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দেয় এবং অন্তর্বর্তীভাবে নির্দেশে স্থগিতাদেশের ইঙ্গিত দেয়। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেয় যে, তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতে তাঁকে অবশ্যই হাজিরা দিতে হবে।
অন্যদিকে ইডির পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, সুজিত বসু তদন্তে যথাযথভাবে সহযোগিতা করছেন না। একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। ইডির আরও বক্তব্য, তদন্তের স্বার্থে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিলম্ব তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের সমন পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, তদন্তে সহযোগিতা না করা মানেই প্রশ্নের জন্ম দেওয়া।




















