বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেক নিয়ে ধন্দে ভারত, কঠিন সিদ্ধান্ত শ্রেয়স আইয়ারের

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০র আগে বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেক নিয়ে জোর জল্পনা। শক্তিশালী টপ অর্ডারের কারণে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে কঠিন নির্বাচন।

vaibhav-suryavanshi-india-debut-selection-dilemma-shreyas-iyer

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটে শুক্রবার শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন শ্রেয়স আইয়ার। তবে এই সিরিজকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অধিনায়ক নয়, বরং ১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)।  আইপিএল এবং ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ধারাবাহিক দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর ভারতের সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ফলে বেলফাস্টে প্রথম টি-২০ ম্যাচের আগে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, অভিষেক কি হবে বৈভবের?

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু ১৫ বছর বয়সে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়া যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই বিরল ঘটনা। বৈভব সেই বিরল প্রতিভাদের একজন। গত কয়েক মাসে তাঁর ব্যাটিং শুধু নির্বাচকদেরই নয়, ক্রিকেটবিশ্বেরও নজর কেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে মাঠে দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সমর্থকেরা। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। ভারতের বর্তমান টি-২০ ব্যাটিং লাইন-আপে জায়গা তৈরি করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

   

দলের প্রথম তিন ব্যাটার হিসেবে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষাণ। এই তিনজনই সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তাঁরা। তিনজনেরই ব্যাট থেকে এসেছিল বড় রান। ফলে সফল টপ অর্ডার ভেঙে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়।

সঞ্জু স্যামসনের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। ওপেনার হিসেবে ২৮ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৯২৬ রান। রয়েছে তিনটি শতরান এবং চারটি অর্ধশতরান। স্ট্রাইক রেট ১৮১-এরও বেশি। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা আরও বিস্ফোরক। ৪৩ ইনিংসে ১৪০০-র বেশি রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৩। দুটি শতরান এবং দশটি অর্ধশতরান তাঁর ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য দেয়। ঈশান কিষাণও সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বৈভবকে প্রথম একাদশে জায়গা দিতে গেলে কাউকে না কাউকে বসাতেই হবে।

একটি সম্ভাবনা হতে পারে সঞ্জুকে মিডল অর্ডারে নামানো। অতীতে চার এবং পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কিন্তু বর্তমানে সেই দুই জায়গা কার্যত নিশ্চিত শ্রেয়স আইয়ার এবং তিলক বর্মার জন্য। ছয় নম্বর পজিশন থাকলেও সেটি সাধারণত অলরাউন্ডারদের জন্য সংরক্ষিত। সেখানে শিবম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা অক্ষর প্যাটেলের মতো ক্রিকেটারদের দাবি রয়েছে। ফলে ব্যাটিং অর্ডারে বড় রদবদল না করে বৈভবকে সুযোগ দেওয়া কঠিন।

তবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে শুধুই পরিসংখ্যানের হিসাব নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বৈভবকে যদি সত্যিই দেশের আগামী দিনের বড় তারকা হিসেবে ভাবা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁকে দ্রুত অভিজ্ঞতা দেওয়াও জরুরি। আয়ারল্যান্ড সিরিজ সেই পরীক্ষার আদর্শ মঞ্চ হতে পারে।

অন্যদিকে সিরিজ জয় দিয়েই অধিনায়কত্ব শুরু করতে চাইবেন শ্রেয়স আইয়ার। আইপিএলে নেতৃত্বের দক্ষতার প্রমাণ তিনি আগেই দিয়েছেন। এবার জাতীয় দলের দায়িত্বে তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে দলকে জয়ের পথে রাখা। তাই পরীক্ষানিরীক্ষার সঙ্গে ফলাফলের ভারসাম্য বজায় রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বেলফাস্টের প্রথম টি-২০ শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মঞ্চ। বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেক হবে কি না, সেই উত্তর মিলবে ম্যাচের দিনই। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—দলে তাঁর উপস্থিতিই ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাই ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।