বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: আয়ারল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ০-২ ব্যবধানে হারের ধাক্কা কাটিয়ে এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে ভারত। বুধবার থেকে শুরু হতে চলা এই সিরিজে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ১৫ বছরের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) সম্ভাব্য অভিষেক।
আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর থেকেই তাঁকে ভারতীয় দলে দেখার জন্য সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডুশকাটে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈভবকে অন্য সব ক্রিকেটারের মতোই নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার মতো প্রতিভা এবং মানসিক প্রস্তুতি এই তরুণের রয়েছে।
আয়ারল্যান্ড সিরিজে ভারতের ব্যাটিং ছিল বড় হতাশার কারণ। বিশেষ করে ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের ব্যর্থতা নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। দুই ম্যাচেই তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে ইংল্যান্ড সিরিজে তাঁকে বিশ্রাম দিয়ে বৈভব সূর্যবংশীকে অভিষেক করানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে অভিষেক শর্মাও ধারাবাহিক রান করতে না পারলেও প্রথম ম্যাচে দ্রুত ৪৯ রানের একটি ইনিংস তাঁকে আপাতত কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিষাণও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো ছন্দে ছিলেন না। মাত্র ১ ও ১২ রান করে তিনি হতাশ করেছেন। ফলে টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে সঞ্জু বা ঈশানের মধ্যে কাউকে বাইরে রেখে বৈভবকে সুযোগ দিতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।
যদিও সঞ্জু স্যামসনের সাম্প্রতিক অতীত একেবারে খারাপ নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ দিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং আইপিএলেও দুটি শতরান করেছিলেন। তবুও বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্ট কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয় না। প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর ও প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর আগেও একাধিক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আয়ারল্যান্ড সিরিজেই সূর্যাংশ শেডগে ও প্রিন্স যাদবকে আন্তর্জাতিক অভিষেকের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অথচ বৈভবকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের ব্যাটারদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। রিভারসাইড গ্রাউন্ডের উইকেট সাধারণত বোলারদের সাহায্য করে। এখানে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গড় স্কোর মাত্র ১৩৮। তাই শুরু থেকেই উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে ভারত বড় সমস্যায় পড়তে পারে।
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণও যথেষ্ট শক্তিশালী। জোফ্রা আর্চার, জশ টাং, সাকিব মাহমুদ ও সনি বেকারের গতি, সঙ্গে আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদের স্পিন ভারতীয় ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক মানসিকতা নয়, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের কাছে এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়ারল্যান্ডে হারের পর টানা দ্বিতীয় সিরিজ হারলে দলের উপর চাপ আরও বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপও যথেষ্ট ভয়ঙ্কর। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের পাশাপাশি জস বাটলার, ফিল সল্ট, উইল জ্যাকস, জর্ডান কক্স, জ্যাকব বেথেল ও টম ব্যান্টনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটাররা যে কোনও সময় ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন।
ভারতের বোলারদেরও নিজেদের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে হবে। আয়ারল্যান্ড সিরিজে শুরুতে উইকেট তুললেও মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষকে সহজে রান করার সুযোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে একই ভুল করলে তার মূল্য আরও বেশি দিতে হতে পারে। বিশেষ করে স্পিনার অক্ষর প্যাটেল, সূর্যাংশ শেডগে এবং ওয়াশিংটন সুন্দরকে অনেক বেশি কার্যকর হতে হবে।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজ ভারতের কাছে শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের যাচাই এবং ভবিষ্যতের দল গঠনের অন্যতম বড় পরীক্ষা। বৈভব সূর্যবংশী অভিষেকের সুযোগ পান কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।





