বাংলাদেশের ম্যাচ সরলেই কোটি টাকার ধাক্কা ভারতের? ICC সিদ্ধান্তেই ভবিষ্যৎ!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে (T20 World Cup) সামনে রেখে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট। কলকাতা ও মুম্বই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি সম্ভবত সরিয়ে নিতে পারে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার চেয়ারম্যান ...

By Subhasish Ghosh

Published:

Follow Us
t20-world-cup-bangladesh-matches-india-financial-impact

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে (T20 World Cup) সামনে রেখে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট। কলকাতা ও মুম্বই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি সম্ভবত সরিয়ে নিতে পারে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ নিজে নতুন সূচি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আদৌ ভারতের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না, হলে কতটা? পুরোপুরি নির্ভর করছে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, তার উপর।

নিরাপত্তার প্রশ্নে টুর্নামেন্টের সূচি কি পরিবর্তিত হবে? ICC নিয়মে…

   

প্রথমত, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি কি সত্যিই ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে? নাকি সূচিতে অদলবদল করে বা অন্য ম্যাচ বসিয়ে ক্ষতি সামাল দেওয়া হবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই স্পষ্ট হবে আর্থিক ছবিটা।

বাংলাদেশের ম্যাচের বর্তমান সূচি

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের মোট চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে কলকাতা ও মুম্বইয়ে।

ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৭ ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশ বনাম ইটালি – ৯ ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড – ১৪ ফেব্রুয়ারি

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বই

বাংলাদেশ বনাম নেপাল – ১৭ ফেব্রুয়ারি

ভারতে বিশ্বকাপ না খেললে মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে বাংলাদেশ!

ইডেন গার্ডেন্সে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার, ওয়াংখেড়েতে ৩৩ হাজার। সব মিলিয়ে চারটি ম্যাচে প্রায় ২ লক্ষ ২২ হাজার টিকিটের হিসাব জড়িত। এই ম্যাচগুলির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

বিসিসিআই আসল ক্ষতি কোথায়?

আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের টিকিটের মালিকানা আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের হাতে। অর্থাৎ আয়োজক দেশ হলেও টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ পায় না বিসিসিআই। ফলে শুধু টিকিট বিক্রি বন্ধ হলেই যে বোর্ডের বিরাট ক্ষতি হবে, তা নয়।

তবে আসল ধাক্কা লাগতে পারে তিনটি জায়গায়-

ম্যাচ-ডে সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত আয়)

স্থানীয় স্পনসরশিপ

হসপিটালিটি ও ভিআইপি বক্সের চাহিদা

এই খাতগুলিই মূলত আয়োজক বোর্ডের আয়ের বড় উৎস।

তিন সম্ভাব্য পরিস্থিতি, তিন রকম ক্ষতির হিসাব

পরিস্থিতি ১: ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হবে, বিকল্প ম্যাচ নেই

যদি বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই কলকাতা ও মুম্বই থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে অন্য কোনও ম্যাচ না দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক বড় হতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, দর্শক উপস্থিতি যদি ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ হয় এবং টিকিটের গড় দাম ধরা হয় ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা, তবে সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৭ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

দল ঘোষণা করেই ভারতে বিশ্বকাপ ‘বয়কট’ বাংলাদেশের! কি বলল ক্রীড়া উপদেষ্টা?

পরিস্থিতি ২: ম্যাচ সরবে, কিন্তু অন্য ম্যাচ বসবে

এই ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। কারণ, স্টেডিয়াম ফাঁকা থাকবে না, টিকিট বিক্রিও চলবে। বরং বাংলাদেশ-ইটালি বা বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের বদলে আরও আকর্ষণীয় ম্যাচ পাওয়া গেলে দর্শক আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যে কেন্দ্র থেকে ম্যাচ সরিয়ে এনে কলকাতা বা মুম্বইয়ে দেওয়া হবে, সেই কেন্দ্রগুলির আপত্তি বা ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে আইসিসিকে।

পরিস্থিতি ৩: শুধু কেন্দ্র বা তারিখ অদলবদল

সবচেয়ে কম ক্ষতির পরিস্থিতি এটি। যদি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো বড় দলের ম্যাচের কেন্দ্র বা তারিখ অদলবদল করে মোট ম্যাচ সংখ্যা ঠিক রাখা যায়, তবে আর্থিক ক্ষতি প্রায় নগণ্যই থাকবে। সেক্ষেত্রে মূল খরচ হবে শুধু লজিস্টিকস ও নতুন পরিকল্পনার জন্য।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের ম্যাচ সরানো মানেই যে ভারতের বড় আর্থিক ক্ষতি, তা নিশ্চিত নয়। সবকিছুই নির্ভর করছে আইসিসি কী ধরনের সমাধান বেছে নেয় তার উপর। সূচিতে সামান্য বুদ্ধিদীপ্ত অদলবদল হলে ক্ষতির অঙ্ক নেমে আসতে পারে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এখন নজর আইসিসি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Subhasish Ghosh

[email protected]

Follow on Google