Mohun Bagan: ভারতীয় ফুটবলে ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই বিতর্কের মধ্যেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ)-এর কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জমা দিয়েছে মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন কর্তৃপক্ষের দাবি, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ওসিআই নীতি কার্যকর করা গেলে তা শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় জাতীয় দলের উন্নয়নেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।
মোহনবাগানের অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হল, ওসিআই ফুটবলার নেওয়ার বিষয়টি কোনও ক্লাবের জন্য বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। বরং প্রতিটি ক্লাব নিজেদের প্রয়োজন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পাক। অর্থাৎ, কোনও দল চাইলে ওসিআই ফুটবলার নেবে, আবার কেউ না নিলেও তার উপর কোনও বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ক্লাবের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ক্লাবগুলিও নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী দল গঠন করতে পারবে।
এছাড়াও মোহনবাগান প্রস্তাব দিয়েছে, ওসিআই ফুটবলারদের দেশীয় ফুটবলারের মর্যাদা দেওয়া হোক। বর্তমানে বিদেশি কোটার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্লাব ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান ফুটবলারদের দলে নিতে আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু তাঁদের যদি দেশীয় ফুটবলার হিসেবে ধরা হয়, তাহলে বিভিন্ন ক্লাব আরও বেশি সংখ্যায় এই ফুটবলারদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত হবে। এতে প্রতিযোগিতার মান যেমন বাড়বে, তেমনই ভারতীয় ফুটবলের প্রতিভার ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হবে।
তবে শুধু ওসিআই ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত করাই নয়, তাঁদের বয়স নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে মোহনবাগান। ক্লাবের মতে, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের ভারতীয় ফুটবলকে শক্তিশালী করা। তাই ৩৫ বছর বয়সি বা তার বেশি বয়সের ফুটবলারদের নেওয়ার কোনও বাস্তব অর্থ নেই। এমন ফুটবলারদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই কারণেই বয়সসীমা কমিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে তারা।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় মোহনবাগান চায়, ৩০ বছরের কম বয়সি ওসিআই ফুটবলারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। এর ফলে তাঁরা ভারতে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ভবিষ্যতে ভারতীয় পাসপোর্ট অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সেই ক্ষেত্রে তাঁরা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতে পারেন, যা জাতীয় দলের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ক্লাবের নজর রয়েছে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। সেই লক্ষ্যেই ২৬ বছরের কম বয়সি ওসিআই ফুটবলারদের দেশীয় ফুটবলার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোহনবাগানের বিশ্বাস, কম বয়সে প্রতিভাবান ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের দেশের ফুটবল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় দল আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
এদিকে সম্প্রতি এআইএফএফের সাধারণ সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মরশুম থেকে আইএসএল ও আই-লিগে প্রতিটি দলকে পুরো ম্যাচে অন্তত একজন ভারতীয় স্ট্রাইকার খেলাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ফরোয়ার্ডদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে দেশীয় স্ট্রাইকারদের পর্যাপ্ত সুযোগ মিলছিল না বলে অভিযোগ ছিল। নতুন নিয়ম সেই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতীয় স্ট্রাইকারদের বাধ্যতামূলকভাবে ম্যাচ খেলানোর নিয়ম এবং পরিকল্পিত ওসিআই নীতি—এই দুই উদ্যোগ একসঙ্গে কার্যকর হলে ভারতীয় ফুটবল উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে। দেশীয় ফুটবলাররা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষ ফুটবলারদেরও দেশের ফুটবলে যুক্ত করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে মোহনবাগানের প্রস্তাব ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা বলেই মনে করা হচ্ছে।



