আইএসএল রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন কল্যাণ চৌবে, পূর্ণাঙ্গ লিগের আশ্বাস

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগ হিসেবে আইএসএল চালু হওয়ার পর দেশের ক্লাব ফুটবলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিকাঠামো, প্রচার, দর্শক আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির ছবি দেখা গেছে। তবে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
AIFF President Kalyan Chaubey Addresses ISL 2025-26 Crisis

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগ হিসেবে আইএসএল চালু হওয়ার পর দেশের ক্লাব ফুটবলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিকাঠামো, প্রচার, দর্শক আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির ছবি দেখা গেছে। তবে একটি পুরনো সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে, আর তা হলো রেফারিংয়ের মান। গত কয়েক মরশুমে একাধিকবার ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুল সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত কার্ড, পেনাল্টি না দেওয়া কিংবা অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্লাব ও সমর্থকদের ক্ষোভ বারবার সামনে এসেছে।

চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গল বনাম বেঙ্গালুরু ম্যাচে মিগুয়েলকে দেখানো লাল কার্ড ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বহু ফুটবলপ্রেমীর মতে, ওই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং তা ম্যাচের গতিপথও বদলে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেফারিংয়ের মান নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

   

এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তিনি জানিয়েছেন, রেফারিংয়ের উন্নতি রাতারাতি সম্ভব নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তাঁর মতে, শুধু সমালোচনা করলেই হবে না, রেফারিদের জন্য সঠিক পরিবেশ এবং স্থায়ী কাঠামো তৈরি করাও জরুরি। সেই কারণেই এখন রেফারিদের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে ফেডারেশন। আগে অধিকাংশ রেফারি ম্যাচ প্রতি পারিশ্রমিক পেতেন। ফলে তাঁদের আয় অনিশ্চিত ছিল এবং অনেকেই এই পেশাকে পূর্ণ সময়ের কাজ হিসেবে নিতে পারতেন না। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া হলে তাঁরা আরও পেশাদার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করছে ফেডারেশন।

কল্যাণ চৌবের বিশ্বাস, এতে মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও উন্নতি আসবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রেফারিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন গৌতম কর এবং এম সুরেশ। ভারতীয় ফুটবলে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মের রেফারিদের তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট কোনও রেফারি বা একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমালোচনা না করে সামগ্রিক উন্নয়নই এখন লক্ষ্য বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

এদিকে এ বছর দেশের শীর্ষ লিগ আয়োজন করছে সরাসরি ফেডারেশন। পুরনো বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর নতুন সমঝোতা হয়নি। তাই নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস পরে শুরু হয়েছে লিগ।মরশুম শুরুর আগে অবনমন ও উত্তরণের কথা বলা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করতে চাননি কল্যাণ চৌবে। বিশেষ করে মহামেডানের অবনমনের সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

তবে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতের নির্দেশ মেনেই পরিচালিত হবে এবং ফেডারেশন আইন ভেঙে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। সবশেষে আগামী মরশুম নিয়ে বড় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী বছর ফুটবলপ্রেমীরা পূর্ণাঙ্গ এবং দীর্ঘ সময়ের একটি লিগ দেখতে পাবেন। সংক্ষিপ্ত মরশুমের হতাশা থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকতে বলেছে ফেডারেশন।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google