টিভি ও ডিজিটালে আইপিএলের জয়জয়কার, ভাঙল পুরনো সব রেকর্ড

ipl-viewership-record-tv-digital-jiostar-regional-language-growth

বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যয়বহুল ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হিসেবে আইপিএলের নাম এখন প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছরই এই প্রতিযোগিতা নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে, আর এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি, টানটান প্রতিযোগিতা এবং দর্শকদের বিপুল আগ্রহ, সব মিলিয়ে আইপিএলের উন্মাদনা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক তথ্য সেই ছবিই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এ বারের আইপিএলে দর্শকসংখ্যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। টেলিভিশন ও ডিজিটাল, দুই মাধ্যমেই বিপুল সংখ্যক মানুষ টুর্নামেন্ট দেখেছেন। সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টারের দাবি, আইপিএলের উনিশতম মরশুমে সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা ১.১ বিলিয়নে পৌঁছেছে। শুধু টিভিতেই প্রায় ৫০ কোটির বেশি দর্শক খেলা দেখেছেন, যা ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচারের ইতিহাসে বড় মাইলফলক।

   

ডিজিটাল মাধ্যমে দর্শক বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শক সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। মোবাইল ফোন ও স্মার্ট টিভির ব্যবহার বাড়ার ফলে এখন অনেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে বেশি স্বচ্ছন্দ। পাশাপাশি টিভি দর্শক সংখ্যাও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ শুধু অনলাইন নয়, প্রচলিত মাধ্যমেও আইপিএলের জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক ভাষার সম্প্রচার। বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড় বা মারাঠির মতো ভাষায় ধারাভাষ্য শুনে খেলা দেখার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এই মরশুমে আঞ্চলিক ভাষায় আইপিএল দেখার পরিমাণ প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সংযোগ আরও গভীর হয়েছে।

জিওস্টার স্পোর্টসের সেলস প্রধান অনুপ গোবিন্দনের মতে, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা যত বেড়েছে, দর্শকদের আগ্রহও তত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতি সপ্তাহে দর্শকসংখ্যা বাড়ার অর্থ হল আইপিএলকে ঘিরে মানুষের আবেগ ক্রমশ আরও তীব্র হচ্ছে। বাস্তবেও এ বছরের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত জমজমাট। টুর্নামেন্ট শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দল নিশ্চিতভাবে প্লে-অফে জায়গা করে নিতে পারেনি। আটটি দল এখনও শেষ চারের দৌড়ে রয়েছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত নকআউটের উত্তেজনা তৈরি করছে। তবে মরশুমের শুরুতে পরিস্থিতি এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দর্শকদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি ছিল। পাশাপাশি পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন এবং কিছু জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছিল দর্শক টানার ক্ষেত্রে। শুরুতে তাই

সম্প্রচারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, আইপিএলের উত্তেজনা তত বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত আবারও প্রমাণিত হয়েছে, ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আইপিএলের আকর্ষণ এখনও একইরকম।