১২ দলের IPL আদৌ সম্ভব? মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান

কলকাতা: আইপিএল (IPL) এখন আর শুধু একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলির মধ্যে জনপ্রিয়তা, গুরুত্ব এবং…

ipl-12-teams-expansion-chairman-big-update

কলকাতা: আইপিএল (IPL) এখন আর শুধু একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলির মধ্যে জনপ্রিয়তা, গুরুত্ব এবং দর্শকসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের পরেই এর স্থান ধরা হয়। মাত্র উনিশ বছরের ইতিহাস হলেও এই লিগ যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হল এর বিনোদনমূলক উপস্থাপনা, তারকাখচিত দল এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতা। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা ক্রিকেটাররা এই মঞ্চে একত্রিত হন, যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে। গত বছর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলির আয় হাজার কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে, যা এই লিগের আর্থিক শক্তির প্রমাণ দেয়।

দুই হাজার ছাব্বিশ সালের আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই এই উন্মাদনার বড় প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের ম্যাচে অনলাইন সম্প্রচারে চারশো ছাব্বিশ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক যুক্ত হয়েছিলেন। এই সংখ্যা একই বছরের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচকেও পিছনে ফেলে দেয়। এতে স্পষ্ট, আইপিএল এখন কেবল ভারতের নয়, বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও এক বিশাল আকর্ষণ।এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে আরও বড় আকার দিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও নানা পরিকল্পনা করছে। কয়েক বছর আগে থেকেই ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

   

পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ম্যাচ বাড়িয়ে ভবিষ্যতে প্রায় একশোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে আইপিএল চুয়াত্তর ম্যাচেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা। মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্তই আইপিএলের জন্য সময় পাওয়া যায়। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নানা সিরিজ় এবং প্রতিযোগিতা থাকায় সময় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার জুন মাসে প্রতিযোগিতা বাড়াতে গেলে বর্ষার সমস্যার মুখে পড়তে হয়, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাংশে।

একই সময়ের মধ্যে বেশি ম্যাচ আয়োজন করতে গেলে দিনে দুটি করে ম্যাচ রাখতে হবে। কিন্তু এতে সম্প্রচার সংস্থাগুলির আপত্তি রয়েছে, কারণ দুপুরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা তুলনামূলক কম হয়। ফলে সব দিক বিবেচনা করেই আপাতত ম্যাচসংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, ভবিষ্যতে আইপিএলে দলের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না। বর্তমানে দশটি দল অংশ নিচ্ছে। নতুন দল যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আয়োজকদের মতে, গুণগত মান বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। বড় সময়সীমা না পেলে নতুন দল যোগ করা কঠিন। সব মিলিয়ে বলা যায়, আইপিএল ক্রমশ আরও বড় এবং শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এই লিগ হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে, যেখানে লিগ ক্রিকেটের গুরুত্ব আরও বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় কিছুটা কমে আসবে।