ভারতীয় দলে গৃহযুদ্ধ ! কথা বন্ধ বিরাট – গম্ভীরের ?

Virat-Gambhir Rift: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে শেষ ম্যাচে ভারতের হারের পর মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়…

Virat-Gambhir Rift: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে শেষ ম্যাচে ভারতের হারের পর মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘিরে একাধিক খবর সামনে আসায় সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো হচ্ছে না, অন্যদিকে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং কোচ–ক্রিকেটার সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

কার্ডিফে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২৩৩ রান তোলে। শুরুটা ভালো হয়নি। অধিনায়ক রোহিত শর্মা আবারও বড় রান করতে ব্যর্থ হন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই ইনিংস আরও চাপ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন মহলে এমনও আলোচনা শুরু হয়েছে যে আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নির্বাচকেরা নতুন মুখদের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও জল্পনা থামছে না।

অন্যদিকে বিরাট কোহলি কিছুটা ছন্দে ফিরলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অর্ধশতরান করার পর দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান। তাঁর আউট হওয়ার পর ভারতের রান অনেকটাই চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শ্রেয়স আইয়ার দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছে দেন। তবে ২৩৩ রান যে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে যথেষ্ট নয়, সেটাই পরে প্রমাণিত হয়।

ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং বিরাট কোহলির মধ্যে নাকি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। অনুশীলনের সময় দু’জনকে পাশাপাশি দেখা গেলেও তাঁদের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা খুব একটা হয়নি বলেই দাবি করা হচ্ছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক মাঝেমধ্যে দু’জনের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করছেন।

তবে এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সীতাংশু কোটাক। তাঁর বক্তব্য, গম্ভীর ও বিরাটের সম্পর্ক নিয়ে যে ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচ এবং বিরাট নিয়মিত আলোচনা করেন। তাই বাইরে থেকে যা দেখা যাচ্ছে, সেটাকে বাস্তব পরিস্থিতি বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ভারতীয় ক্রিকেটে এর আগেও নানা সময়ে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হলেই এই ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ফলে শুধুমাত্র গুঞ্জনের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

এখন ভারতের সামনে সিরিজের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচ জিতে সম্মান বাঁচানোর পাশাপাশি দলীয় আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাও বড় লক্ষ্য। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং অন্যান্য সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংসের অপেক্ষায় থাকবে সমর্থকেরা। একই সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে এই চাপ সামলায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ড্রেসিংরুমে সত্যিই কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট ভারতীয় দল যদি দ্রুত ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সে ফিরতে না পারে, তাহলে এই ধরনের জল্পনা আরও বাড়বে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো মাঠে ফল এনে সমালোচনার জবাব দেওয়া।