দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিংকে ঘিরে। শনিবার তাঁর পাঞ্জাবের জলন্ধরস্থিত বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান আম আদমি পার্টির কর্মীরা। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার একদিনের মধ্যেই এই প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা বাড়ির বাইরের দেওয়ালে কালো রং দিয়ে ‘গদ্দার’ লিখে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন কর্মী চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদও জানান। জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় হরভজন সিং বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে আম আদমি পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন হরভজন সিং। রাজনৈতিক মহলে তখন তাঁর যোগদানকে বড় চমক হিসেবে দেখা হয়েছিল। ক্রিকেট জগতের জনপ্রিয় মুখ হওয়ায় আপও মনে করেছিল, তাঁর উপস্থিতি দলের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ করেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তিনি নন, রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল ও সন্দীপ পাঠক-সহ মোট সাতজন সাংসদ আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
এত বড়সড় দলবদলে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনার পর আপ নেতৃত্বের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান প্রকাশ্যে দলত্যাগী সাংসদদের ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে আপকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে এবং জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, যারা মানুষের ভোটে জিতে অন্য দলে চলে যান, তারা জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেন। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তরুণ মুখ হিসেবে আপের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর বিজেপিতে যোগদান অনেককেই অবাক করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু দলের সাংগঠনিক শক্তিকেই নাড়া দেয়নি, তরুণ ভোটারদের মধ্যেও প্রশ্ন তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘আনফলো’ করার প্রবণতা সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। হরভজন সিংয়ের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। ক্রিকেট জীবনে তিনি দেশের হয়ে বহু স্মরণীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং কোটি মানুষের প্রিয় মুখ ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এখন তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রিয়তা আর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এক জিনিস নয়। মাঠের নায়ক রাজনীতির ময়দানে সবসময় সমান সমর্থন পান না। সব মিলিয়ে, আপ থেকে সাত সাংসদের একযোগে বিজেপিতে যোগদান দেশের রাজনীতিতে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু পাঞ্জাব নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে। আগামী দিনে এই দলবদল কতটা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়, এখন সেটাই দেখার।




















