প্রয়াত বাংলার ধারাভাষ্যকার-ক্রীড়া সংগঠক গোপীনাথ ঘোষ

কলকাতা: তারাদের দেশে পাড়ি দিলেন খেলোয়াড়, ধারাভাষ্যকার তথা বাংলার অন্যতম দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক গোপীনাথ ঘোষ (Gopinath Ghosh)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বয়সজনিত কারণে বুধবার…

Gopinath Ghosh Death

কলকাতা: তারাদের দেশে পাড়ি দিলেন খেলোয়াড়, ধারাভাষ্যকার তথা বাংলার অন্যতম দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক গোপীনাথ ঘোষ (Gopinath Ghosh)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বয়সজনিত কারণে বুধবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। বাংলার ক্রীড়া প্রশাসনে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ক্রীড়ামহলে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার ক্রীড়াজগতে।

গত সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন গোপীনাথ ঘোষ। বুধবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। শোকপ্রকাশ করে পরিসংখ্যানবিদ হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। তাছাড়াও বেটন কাপে তাঁর ধারাভাষ্য শুনেছি। কেবল হকি নয়। ফুটবল ও টেবিল টেনিসেও তিনি ধারাভাষ্য দিতেন। তাঁর মৃত্যুতে ক্রীড়ামহলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।“

   

দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে ছিলেন বাংলার টেবিল টেনিস ও হকি প্রশাসনের সঙ্গে গোপীনাথ। ১৯৭৫ সালের নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে টেবিল টেনিস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরিচালনা কমিটিতেও ছিলেন। নিজেও হকি খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। মোহনবাগানের হয়ে হকি খেলতেন। গোলরক্ষক ছিলেন গোপীনাথ। কলকাতা কাস্টমস এবং উয়াড়িতেও হকি খেলেছেন তিনি। তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ধারাভাষ্যকার হিসাবেও সাফল্যের চূড়ায় উঠেছিলেন।

কনসেপ্ট কমিউনিকেশনে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসাবে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন গোপীনাথ ঘোষ। পেশাদারী জীবনে তিনি ছিলেন একজন ইভেন্ট ম্যানেজার। ৮০-র দশকে মস্কোয় ভারতের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৮৭-র সাফ গেমসের অন্যতম আয়োজক ছিলেন বাংলার গোপীনাথ। প্রখ্যাত বাঙালি মিষ্টি প্রস্তুতকারক দ্বারিকানাথ ঘোষের নাতি গোপীনাথ ঘোষ। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।