বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) গ্রুপ পর্ব এখনও শেষ হয়নি। অথচ নকআউটের লড়াইয়ের আগে দুই শক্তিশালী ফুটবল দেশ জার্মানি ও উরুগুয়ের শিবিরে অশান্তির খবর সামনে এসেছে। দুই দলের ক্ষেত্রেই কোচের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশও এখন নজরে।
জার্মানির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে হারের পর। ম্যাচের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটে লেরয় সানের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুটি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় ইকুয়েডর।
Also Read | কলকাতার খুব কাছে ড্রাগনে নিঃশ্বাস! হাতছাড়া মোংলায় চিনা চুক্তিতে উদ্বিগ্ন সাউথ ব্লক
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তাঁর মতে, প্রথম গোল করার পর জার্মান ফুটবলাররা অকারণে পিছিয়ে যায় এবং প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত জায়গা দেয়। তিনি মনে করেন, দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্চ-চাপের ফুটবল (হাই প্রেসিং) খেলতে না পারার ফলেই এই হার এসেছে। প্রতিপক্ষের মরিয়া মনোভাব সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকলেও সেই অনুযায়ী খেলতে পারেনি তাঁর দল।
তবে কোচের এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ফরোয়ার্ড ডেনিজ উন্ডাভের মতে, সমস্যাটা কৌশলে নয়, মানসিকতায়। তিনি বলেন, ইকুয়েডরের ফুটবলাররা প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করেছেন এবং জয়ের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। জার্মানি সেই তাগিদ দেখাতে পারেনি। তাঁর দাবি, কোচের পরিকল্পনায় কোনও ত্রুটি ছিল না।
একই সুর শোনা যায় অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জোশুয়া কিমিচের গলাতেও। কিমিচের মতে, ইকুয়েডর জেতার ক্ষুধা বেশি দেখিয়েছে বলেই ম্যাচের ফল তাদের পক্ষে গিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, প্রতিপক্ষই ওই দিনে যোগ্য দল হিসেবে জয় পেয়েছে। কোচের বক্তব্যের সঙ্গে ফুটবলারদের এই প্রকাশ্য মতপার্থক্য জার্মান শিবিরে ভাঙনের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
Also Read | শেষ মুহূর্তের গোলে আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ তুরস্কের
অন্যদিকে, উরুগুয়ে শিবিরেও কোচ মার্সেলো বিয়েলসার কাজের ধরন নিয়ে অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, দলের কয়েকজন ফুটবলার মনে করছেন, অনুশীলনে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করানো হচ্ছে। এর ফলে ম্যাচের আগে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, এমনকি চোটের ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফুটবলাররা নাকি কোচের কাছে অনুশীলনের চাপ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, তুলনামূলক হালকা প্রস্তুতি নিলে ম্যাচের সময় দল আরও সতেজ থাকবে এবং পারফরম্যান্সও ভালো হবে। শুধু তাই নয়, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রক্ষণ মজবুত রেখে দ্রুত প্রতিআক্রমণে ওঠার কৌশল নেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তাঁরা।
কিন্তু বিয়েলসার দীর্ঘদিনের কোচিং দর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বরাবরই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী। সেই কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে আগের ম্যাচে কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে উরুগুয়ে দু’টি গোল হজম করেছে। তাই ফুটবলারদের একাংশ মনে করছেন, স্পেনের বিরুদ্ধে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আরও বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
যদিও এখনও পর্যন্ত বিয়েলসা বা উরুগুয়ের কোনও ফুটবলার প্রকাশ্যে এই বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবুও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোচ ও ফুটবলারদের মধ্যে এমন মতবিরোধ দুই দলের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন



