নক আউটের শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে রয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি (Bengaluru FC)। দিনকয়েক আগেই নিজেদের ঘরের মাঠে পেট্র ক্র্যাটকির শক্তিশালী মুম্বাই সিটি এফসিকে ধরাশায়ী করেছিল সুনীল ব্রিগেড। পাঁচটি গোলের ব্যবধানে এসেছিল জয়। যা নিঃসন্দেহে চমকে দিয়েছিল সকলকে। এমন অনবদ্য পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সহজেই তাঁরা পরাজিত করতে সক্ষম হয় গতবারের আইএসএল জয়ীদের। এক কথায় যা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল দলের সকলের। তারপর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গত বুধবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আসে জয়। অনায়াসেই তাঁরা পরাজিত করে মানোলো মার্কুয়েজের এফসি গোয়াকে।
এই জয়ের ফলে আইএসএল ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে ফেলল জেরার্ড জারাগোজার ছেলেরা। বলাবাহুল্য, এদিন ঘরের মাঠে ম্যাচ থাকায় প্রথম থেকেই যথেষ্ট চনমনে মেজাজে ধরা দিয়েছিলেন আলবার্তো নগুয়েরা থেকে শুরু করে রায়ান উইলিয়ামসের মতো ফুটবলাররা। তাঁদের আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রথম থেকেই যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিল মানোলোর ছেলেদের। স্বাভাবিকভাবেই গোলের মুখ খুলতে খুব একটা সমস্যা হয়নি তাঁদের পক্ষে। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষের দিকে বেঙ্গালুরুর আক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে নাজেহাল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল আকাশ সাঙ্গওয়ানদের।
তারপর সন্দেশ ঝিঙ্গানের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। প্রথমার্ধে একটি গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের তেজ বাড়াতে শুরু কর্নাটকের এই ফুটবল ক্লাব। তারপর এডগার মেন্ডেজের গোল। পরবর্তীতে গোয়ার তরফে আক্রমণ বাড়ানো হলেও গোলের মুখ খোলা সম্ভব হয়নি। প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের অনবদ্য ডিফেন্সে শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধানে আসে জয়। ফুটবলারদের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট খুশি জেরার্ড জারাগোজা।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “গত মুম্বাই সিটি এফসির বিপক্ষে খেলার আগে, গত দশ দিনের অনুশীলনে দলটি প্লে-অফের মতো মেজাজ দেখিয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে একের পর এক ম্যাচে আসে জয়। তাছাড়া মুম্বাই সিটি এফসির ম্যাচটি আমাদের এই মানসিকতাও দিয়েছে যে আমাদের এইভাবে তৈরি থাকতে হবে কারণ আমরা জানি যে এফসি গোয়া এই লিগের সেরা দলগুলির মধ্যে একটি। অবশেষে, আমি মনে করি আমরা এই জয়ের যোগ্য ছিলাম, এবং আমরা আরও কিছু গোল করতে পারতাম।এটাই আসল কথা।”