৪৮ দলের বিশ্বকাপে শুরু নকআউট, শেষ ৩২-এ অঘটনের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব

গ্রুপ পর্বে একের পর এক চমকের পর শুরু হচ্ছে রাউন্ড অফ ৩২। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেনদের সামনে কঠিন পরীক্ষা, নজরে একাধিক হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

fifa-world-cup-2026-round-of-32-full-schedule-and-upsets-preview

৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রতিযোগিতার মান নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল, তার অনেকটাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই মনে করেছিলেন, বেশি দল অংশ নেওয়ায় একপেশে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, বেশিরভাগ ম্যাচেই ছোট দলগুলি বড় শক্তিগুলিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে গ্রুপ পর্ব ছিল রোমাঞ্চ, অঘটন এবং চমকের এক দারুণ মিশেল।

সবচেয়ে বড় চমকগুলির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স। ইতিহাসে প্রথমবার তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। একইভাবে মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দেও অসাধারণ লড়াই করে শেষ ৩২-এ উঠেছে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই সাফল্য ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে। নকআউটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। ফল যা-ই হোক, কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প হয়ে উঠেছে।

   

এছাড়াও একাধিক তথাকথিত ছোট দল নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। আয়োজক কানাডা ঘরের মাঠের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। কঙ্গো, বসনিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আলজেরিয়ার মতো দলও নিজেদের লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এসব ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তির ব্যবধান আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এখন আর শুধুমাত্র নামের জোরে কোনও দলকে হারানো সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, বড় দলগুলিও প্রত্যাশা অনুযায়ী নকআউটে উঠেছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দেশগুলি নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। ফলে শেষ ৩২-এর লড়াই আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে।

নকআউট পর্বের ড্র দেখে মনে হচ্ছে, বেশিরভাগ ফেভারিট দল তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে। তবে কয়েকটি ম্যাচ শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্তুগালের সামনে রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার কঠিন পরীক্ষা। অভিজ্ঞ ও সংগঠিত এই দলটি যে কোনও মুহূর্তে চমক দেখাতে সক্ষম। ব্রাজিলকেও সহজ ম্যাচ খেলতে হবে না, কারণ তাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। দ্রুতগতির ফুটবল এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ব্রাজিলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

এছাড়া স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচ দুটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জার্মানির বিরুদ্ধে প্যারাগুয়ে অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে, আর ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে সুইডেন। বেলজিয়াম ও সেনেগালের লড়াইটিও হতে পারে নকআউট পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।

সব মিলিয়ে, গ্রুপ পর্বের পর বিশ্বকাপ আরও জমে উঠেছে। ছোট দলগুলির আত্মবিশ্বাস, বড় দলগুলির অভিজ্ঞতা এবং নকআউটের চাপ—এই তিনের সংমিশ্রণে এবার শেষ ৩২-এর প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে উত্তেজনায় ভরপুর। এখন দেখার, চমকের ধারা বজায় থাকে, নাকি শেষ পর্যন্ত ফেভারিটরাই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে পরবর্তী পর্বে এগিয়ে যায়।

রাউন্ড অফ ৩২-এর সূচি:

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা (২৮ জুন, রাত ১২:৩০, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)
ব্রাজিল বনাম জাপান (২৯ জুন, রাত ১০:৩০, হিউস্টন স্টেডিয়াম)
জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে (২৯ জুন, রাত ২, বস্টন স্টেডিয়াম)
নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো (৩০ জুন, সকাল ৬:৩০, এস্তাদিও মন্টেরে)
আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে (৩০ জুন, রাত ১০:৩০, ডালাস স্টেডিয়াম)
ফ্রান্স বনাম সুইডেন (৩০ জুন, রাত ২:৩০, নিউ জার্সি স্টেডিয়াম)
মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর (১ জুলাই, ভোর ৬:৩০, মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম)
ইংল্যান্ড বনাম বনাম কঙ্গো (১ জুলাই রাত ৯:৩০ আটালান্টা স্টেডিয়াম)
বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল (১ জুলাই রাত ১:৩০, সিয়াটেল স্টেডিয়াম)
আমেরিকা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (২ জুলাই, ভোর ৫:৩০, সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়াম)
স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া (২ জুলাই রাত ১২:৩০, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)
পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া (৩ জুলাই ভোর ৪.৩০ টরন্টো স্টেডিয়াম)
সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া (৩ জুলাই সকাল ৮:৩০, বিসি প্লেস ভ্যানকুভার)
অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশর (৩ জুলাই, রাত ১১:৩০, ডালাস স্টেডিয়াম)
আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে (৪ জুলাই, ভোর ৩:৩০, মায়ামি স্টেডিয়াম)
কলম্বিয়া বনাম ঘানা (৪ জুলাই সকাল ৭টা কানসাস সিটি স্টেডিয়াম)