খেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার? কলকাতা লিগ নিয়েও ধোঁয়াশা

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার ফুটবলে কয়েক বছরের মধ্যেই অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য…

diamond-harbour-fc-future-uncertain-Calcutta Football League-durand-cup

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার ফুটবলে কয়েক বছরের মধ্যেই অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে ক্লাবটি দেশের শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। যে ক্লাবকে একসময় বাংলার ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

চার বছরের মধ্যেই আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। গত মরশুমে ডুরান্ড কাপেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে তারা। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল কিবু ভিকুনার দল। যদিও শেষ পর্যন্ত নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। সেই সাফল্যের পর ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।

   

কিন্তু সেই ছবিটাই এখন অতীত। এবারের ডুরান্ড কাপে ২৪টি দল অংশ নিলেও সেখানে জায়গা হয়নি ডায়মন্ড হারবার এফসির। কলকাতার তিন প্রধান—ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান মাঠে নামবে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইএসএলের যোগ্যতা অর্জন করা এই ক্লাবকে দেখা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ক্লাবটির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের কথা প্রকাশ্যে জানান। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবার এফসিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, টাকা তোলা এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ সরকারের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ক্লাবের কার্যকলাপ কার্যত থমকে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এখনও নতুন মরশুমের প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি দল। অনুশীলনও শুরু হয়নি। ক্লাবের সাপোর্ট স্টাফ এবং কয়েকজন কর্মী গত দু’মাস ধরে বেতন পাননি বলেও খবর। ফলে ফুটবলার এবং কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।

আরও বড় উদ্বেগের বিষয়, সামনে কলকাতা ফুটবল লিগ শুরু হলেও সেখানে আদৌ ডায়মন্ড হারবার এফসি দল নামাতে পারবে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। ক্লাবের অন্দরেই এই নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত দল নামানো সম্ভব না হয়, তাহলে তা হবে ক্লাবটির অস্তিত্বের জন্য বড় ধাক্কা।

ডায়মন্ড হারবার এফসির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে এসেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্লাবের প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিস্থিতিতেও তার প্রভাব পড়েছে বলে অনেকের ধারণা। যদিও এই বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।

একসময় যে ক্লাব বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল, আজ সেই ক্লাবই টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। ডুরান্ড কাপের বাইরে থাকা, অনুশীলন বন্ধ, আর্থিক সংকট এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবার এফসির সামনে এখন কঠিন সময়। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাংলার ফুটবল মানচিত্র থেকে এই উদীয়মান ক্লাবের নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।