FIFA World Cup: ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল কানাডা। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই জয় শুধু একটি নকআউট ম্যাচ জেতা নয়, বরং কানাডার ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণ মজবুত রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও কানাডা বলের দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। নির্ধারিত সময়ের বেশিরভাগ অংশ গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৯২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। স্টিফেন ইউস্তাকিও বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়ে কানাডা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকেরা। দলের প্রধান কোচ জেসি মার্শ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। মাঠেই তিনি ফুটবলারদের উদ্দেশে বলেন, এই সাফল্যের প্রকৃত নায়ক তারাই। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের মানসিকতাই দেশের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মার্শ জানান, খেলোয়াড়দের সাফল্যের জন্য প্রকাশ্যে প্রশংসা করতেই তিনি মাঠে গিয়েছিলেন। অনেকেই এটিকে বাড়াবাড়ি বলতে পারেন, কিন্তু তাঁর মতে, এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে ফুটবলারদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ তাঁরাই দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
এই নকআউট ম্যাচের আগে কানাডাকে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে তারা নিজেদের দেশে না খেলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নকআউট ম্যাচ খেলতে বাধ্য হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে নকআউট ম্যাচ খেলতে অন্য দেশে যেতে হয়েছে। তবে মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার কানাডিয়ান সমর্থকের উচ্ছ্বাস দেখে কখনও মনে হয়নি যে দলটি বিদেশের মাটিতে খেলছে।
মার্শ বলেন, ভ্যাঙ্কুভারে খেলার সুযোগ হারিয়ে প্রথমে হতাশা ছিল। তবে খেলোয়াড়রা খুব দ্রুত সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং নিজেদের লক্ষ্যে অটল থাকে। সেই মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ তৈরি করেছে।
এখন শেষ ষোলোয় কানাডার সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো। তবে কোচের মতে, এই পর্যায়ে উঠে দল ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য অর্জন করেছে। তাই এখন কোনো চাপ ছাড়াই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চায় তারা। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবেই এই ম্যাচকে দেখছেন তিনি।
জয়ের নায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিওও দলের আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ আশা ছাড়েনি। প্রত্যেকে একে অপরের জন্য লড়াই করেছে বলেই এই সাফল্য এসেছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়; বিশ্বকাপে আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পরের ম্যাচে নামবে কানাডা। এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ফুটবলকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।



