বিট্টু দত্ত, কলকাতা: দুরন্ত ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারলেন না বৃষ্টি মাঝি। তাঁর অপরাজিত ৯৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি শ্রাচি রাঢ় টাইগার্সকে। বেঙ্গল টি-২০ লিগের (Bengal T20 League) তৃতীয় মরশুমের মহিলা বিভাগের প্রথম সেমিফাইনালে আদামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স ১৯ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল।
সল্টলেকের জেইউ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস মাঠে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় হাওড়া ওয়ারিয়র্সকে। ওপেনার সুজাতা দে ও অঙ্কিতা চক্রবর্তীর জুটি দলের বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। সুজাতা ৫৬ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চমৎকার বাউন্ডারি ও আক্রমণাত্মক শট। অন্যদিকে অঙ্কিতা ৪২ বলে ৪৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দুই ব্যাটারের জুটিতে রাঢ় টাইগার্সের বোলারদের উপর চাপ বাড়তে থাকে। তবে শেষের দিকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে টাইগার্স। দলের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন পিয়ালি ঘোষ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাঁর বোলিংয়ের সুবাদে হাওড়া ওয়ারিয়র্সকে ২০ ওভারে ১৫৯/৫ রানে আটকে রাখা সম্ভব হয়।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় রাঢ় টাইগার্স। একের পর এক ব্যাটার আউট হয়ে ফিরে যাওয়ায় রান তোলার গতি ব্যাহত হয়। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান বৃষ্টি মাঝি। চাপের মুখে তিনি অসাধারণ ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দেন। মাত্র ৬১ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেন বৃষ্টি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৮টি বিশাল ছক্কা। একসময় তাঁর ব্যাটে ভর করেই ম্যাচে ফেরার আশা দেখছিল রাঢ় টাইগার্স। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় সেই আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে রাঢ় টাইগার্স ৯ উইকেটে ১৪০ রান তুলতে সক্ষম হয়। হাওড়া ওয়ারিয়র্সের বোলিং বিভাগও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেয়। শ্রেয়সী আইচ ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এছাড়া রেমন্ডিনা খাতুন ২ উইকেট তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন।
ব্যক্তিগতভাবে অনবদ্য ইনিংস খেলার জন্য ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন বৃষ্টি মাঝি। যদিও তাঁর দল হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়, তবুও তাঁর লড়াকু ব্যাটিং দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ম্যাচের সেরা বৃষ্টি মাঝি জানান “ব্যক্তিগতভাবে ৯৭ রান করে ভালো লাগছে, কিন্তু সত্যি বলতে দল জিততে না পারায় এই ইনিংসের আনন্দটা সম্পূর্ণ পাচ্ছি না। আমরা সবাই ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলাম। শুরুতে কয়েকটা উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে আমি শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করেছি এবং ম্যাচটাকে যতদূর সম্ভব নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমার পরিকল্পনা ছিল শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করা এবং সুযোগ পেলেই বড় শট খেলা। কয়েকটা শট ভালোভাবে ব্যাটে এসেছে, তাই রানও হয়েছে। তবে ক্রিকেট দলগত খেলা। একার পারফরম্যান্সে সবসময় ম্যাচ জেতানো যায় না। প্রতিপক্ষ হাওড়া ওয়ারিয়র্সকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালো বোলিং করেছে এবং চাপ ধরে রেখেছে। আমাদের দলও পুরো টুর্নামেন্টে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী মরশুমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে চাই। সমর্থকদের ধন্যবাদ, তাঁরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন।”



