নয়াদিল্লি: লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আটক হওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্র দাবি করেছে, ওয়াংচুকের প্রকাশ্য ভাষণগুলি কেবল উস্কানিমূলকই নয়, বরং তা বিচ্ছিন্নতাবাদী বার্তা ছড়াচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নেপাল-বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা?
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ওয়াংচুক তরুণ প্রজন্মকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি লাদাখের পরিস্থিতিকে নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই প্রতিবেশী দেশগুলোতে সম্প্রতি যে ধরনের সহিংস গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গিয়েছে, ওয়াংচুক সেগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে লাদাখেও একই পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্র।
আদালতের পর্যবেক্ষণ বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি প্রসন্ন ভারালের বেঞ্চ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলির করা একটি পিটিশনের শুনানি করছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ধারা ৩২-এর অধীনে তারা ডিটেনশন অর্ডারের আপিল শোনে না। আদালতের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল, আটকের কারণ এবং তথ্যাদি জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত কি না। সলিসিটর জেনারেল সওয়াল করেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) সন্তুষ্ট ছিলেন যে ওয়াংচুকের কাজ জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে, এবং আদালতের কাজ কেবল সেই আইনি ভিত্তিটি খতিয়ে দেখা।
ভিডেয়ো ক্লিপ sonam wangchuk detention
ভিডিও প্রমাণের দাবি কেন্দ্রের দাবি, আটকের আগে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়েছে। একজন ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর ভাষণের ভিডিও ক্লিপগুলি দেখান। ওয়াংচুক নিজেই স্বীকার করেছেন যে সেই ভিডিওগুলি আসল। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, এই ভাষণগুলি অশান্তি ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।




















